নিউটন, নিউটাউন ও ‘ব’

গিরিশ পার্কের কাছে ফ্লাইওভার ভেঙ্গে পড়াটা যে এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা, সেটা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু সেইসময় একটা জোক খুব জনপ্রিয় হয়েছিল;

“পশ্চিমবঙ্গে বাস করলে, রাস্তা পেরোনোর সময় ডানদিক আর বাঁদিকের সাথে সাথে ওপরেও একবার দেখে নেবেন; যেকোনো সময়ে উন্নয়নের বোঝা আপনার ঘাড়ে চাপতে পাড়ে।”

এ তো গেল উন্নয়নের কথা, এবার আসি বিশ্বায়নের কথায়।

প্রথম প্রশ্ন, সখি, বিশ্বায়ন কারে কয় ?

আমার ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, পাড়ায় পাড়ায় কাস্তে হাতুড়ি তারা। লাল পতাকা সাদা রঙে ভরা। মানে সে সময় রাজ্য সরকারের প্রতিভূ ছিল ঐ। তারপর পরিবর্তন (?) এল। লাল পতাকা ঢাকল সবুজ রঙে। কিন্তু, তারপর কি হল? উন্নয়নের বোঝা (পড়ুন ব্রীজ) চাপল আমাদের মাথায়। কিন্তু শুধু উন্নয়ন হলেই তো চলবে না, বিশ্বায়ন ও চাই। আমার মনে হয় বিশ্বায়ন ব্যাপারটাকে আমাদের রাজ্য সরকার বড় আক্ষরিক অর্থে ধরে নিয়েছেন; তা না হলে কি করে ওনার ধারনা হয় যে বাংলার আগে ‘বিশ্ব’ বসালে বাংলার বিশ্বায়ন হয়ে যাবে ? কারণ আমি তো এ ছাড়া বিশ্ববাংলা শব্দের কোনো মূলদ ব্যাখ্যা খুঁজে পাই না আমি। আর সেই বিশ্ববাংলার লোগো ? বাপ রে বাপ !! গ্লোবের ওপর ‘ব’ লেখা। মানে একেবারে গ্লোবালাইজেশন। না না, ভুল হল; গ্লোবাংলাইজেশন। রাস্তায় ঘাটে একটা করে ‘ব’। সরকারী অফিসের মাথায় ‘ব’; সাইন্স সিটির মোড়ে ‘ব’; এখন এই ‘ব’ মানে বিশ্ব, না বাংলা, না শ-কার ব-কার এর ‘ব’ সেটা কিন্তু ভগা জানে। বাংলার বিশ্বায়নের চিহ্ন হল ‘ব’। আমি লিখে দিতে পারি, যেসব স্কুলপড়ুয়া ছেলেপুলে এইসব রাস্তা দিয়ে যায়, তারা ব্যা ব্যা এর বদলে ‘ব ব ব্ল্যাক শিপ’ আবৃত্তি করে।

ক’দিন আগে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ হল বাংলায়। ক্যাপশন ‘বিশ্ববাংলায় বিশ্বকাপ’! মরি মরি। মানে বিশ্ববাংলা হল সরকারি শিলমহর।

“বিশ্ববাংলা মে হো, তো জি রহে হো তুম…”

 

61621345

‘ব’পাত চ…

 

এবার আসি নিঊটনের কথায়। কপাল ভালো ভদ্রলোক আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে গাছতলায় বসে ভাবছিলেন; তাই মাথায় আপেল পড়েছিল। আজকের যুগে, যদি নিউ টাউনের ক্রসিং এ বসে গ্র্যাভিটির কথা ভাবতেন, তাহলে মাথায় আপেলের বদলে পড়ত বিশ্ববাংলার ‘ব’। আর তখন বুড়ো নিউটনের দুঃখে শেলডনের মতো আমরা কেঁদে কেঁদে বলতুম

Oh Gravity ! Thou A Heartless Bitch !!

যাক গে যাক। জনগনের (এবং নিউটনের) চোদ্দপুরুষের ভাগ্য যে এই বিশ্বায়নের বোঝা কারোর ঘাড়ে চাপেনি। কারণ, এভাবে যদি একের পড় এক ‘ব’ খুলে খুলে পড়ে যায়, তাহলে বিশ্ব বাংলা শেষে বুড়ো আংলা হয়ে যাবে (মানে বাংলা থেকে ‘ব’ খসে গেলে আংলা ই পড়ে থাকে কিনা)।

ভুলে যাবেন না, মাইকেল বলেছেন –

“প্রবাসে দৈব্যের বশে, জীব-তারা যদি খসে…”

এখন কথা হল, প্রবাসে তো আপনি যাননি, গেছেন বাজারে; আর হঠাৎ আপনার মাথায় একটা আধলা সাইজের ‘ব’ খসে পড়ল। আপনার জীব-তারা তো সেখানেই বাস্তু হারা হয়ে যাবে, তাই না? একে তো কলকাতায় লোকের মাথায় জিনিস পড়ার একটা বিচ্ছিরি ট্রেন্ড রয়েছে। এই তো বছর খানেক আগে তিলজলায় কোন এক ভদ্রলোকের মাথায় ছাদ থেকে বাছুর পড়ে গিয়ে কি কেলেঙ্কারি! তাই হে আমার বঙ্গবাসী, ‘ব’ হইতে সাবধান। আমার তো মনে হয় সব রাজ্য সরকারের অফিসের গেটেই লিখে দেওয়া উচিত; ‘ব’ হইতে সাবধান। কারণ কেউ বলতে পারে না গেটের মাথার ‘ব’ কখন পপাত চ হবে।

মোদ্দা কথা দিনকাল খুব খারাপ। সামনে এমন দিন আসছে, যেদিন আপনি মনের সুখে চপ ল্যাংচাও খেতে পারবেন না। খালি মনে হবে, এই বোধহয় ল্যাংচা/চপ হাবের গেটের মাথা থেকে ‘ব’ খুলে পড়ল মাথায়।

শান্তির আশায়

এবং

‘ব’ মাথায় না পড়ার প্রার্থনায়,

নীল

আবার কবিতা…

প্রথমে কালী, তারপর জগদ্ধাত্রী। বড়ির পর পর এই দুটো পূজোর শেষে, শরীরবাবাজী ‘এবার ক্ষ্যামা দাও’ বলে বিছানা নিলেন। প্রথমে চোখ ফুলে ঢোল, তারপর জ্বর, অবশেষে পৈটিক গন্ডগোল। নাকের গোঁড়ায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ইন্টারনাল আর সেমেস্টার। এর মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত এসে জুটেছে রাইটার্স ব্লক। তাই আর একটু হলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্লগে তালা ঝুলছিল আরকি। কপালগুনে একটা কবিতা লিখে ফেলায়, ভাবলুম আপাতত এটা পোস্ট করে দায়িত্ব এড়াই; শনিবার না হয় আর একটা ব্যবস্থা করা যাবে।

13.11.17

খামখেয়ালি – (c) Neelotpal Sinharoy

এ কবিতাটার নাম – “ভালোবাসা-মন্দবাসা”

কবিতার প্রেরণা দু’জন। আইডিয়াটা আমার এক স্যারের লেখা একটা ওয়ান লাইনার থেকে নেওয়া, আর কবিতাতে মন্দবাসাটা বলতে কাকে বুঝিয়েছি, সে নিজে একবার শুনেই বুঝে গেছে সেটা, আর তাই আমি তিরস্কারে ভূষিতও হয়েছি। বলাবাহুল্য, আমার লেখা আর সব কবিতার মত, এটিও তাকেই নিবেদন করলুম।

 

তাদের, দেখা হত রোজ;

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়,

(কখনো বা) পাড়ার মোড়ে।

একজন মুখ ঘুরিয়ে নিত, ভ্রুকুটি করে;

অন্যজন একটা প্রশান্তির হাসি হাসত।

কথা বলার সুযোগ ছিল অনেক,

(কিন্তু) ইচ্ছে নিয়েই হত সন্দেহ।

এখন প্রশ্ন হল, ভালোবাসা তো ভালোবাসাই,

মন্দবাসাটা কি ? কোথা থেকে এল সে ?

এ প্রশ্ন, অনেকের মনেই ছিল;

আর তাই হয়তো, সেদিন তাদের দেখা হয়ে গেল।

কোথায়? ধরে নি দুজনে আটকা পড়েছিল,

হয়তো কারো ফন্দি বা প্ররোচনায়।

মন্দবাসা আবার মুখ ঘরিয়ে নিল,

ভালোবাসা চোখের পলক ফেলতে পারল না।

বেশ কিছুক্ষণ পর, কটুভাষী মন্দবাসা বলে উঠল;

-কি দেখছ, অমন হ্যাংলার মত ? আগে দেখনি, নাকি ?

-দেখেছি, কিন্তু আজ আরো সুন্দর দেখাচ্ছে তোমায়।

-ওই তোমার দোষ- কিছু একটা দেখলেই ভালোবেসে ফেল। আদিখ্যেতা!

-আর তুমি? তোমার কাজটা কি ?

চুপ করে যায় মন্দবাসা,

কি যেন ভাবে; চোখ দুটো তার

ছল ছল করে ওঠে অজানা দুঃখে।

ভালোবাসা আবার জিজ্ঞেস করে, -কি হল?

-আমি ? আমার কাজও ভালোবাসা।

শুধু তফাত হল, তুমি পা মেপে ফেল না,

সেসব ধর্মে নেই তোমার।

আর আমি পা মাপতে গিয়ে,

আমার কাজটাই ভুলে যাই মাঝে মাঝে।

-কিন্তু ভালোবাসলে কি আর পা মেপে…

-তুমি জান না, তোমার মনে থাকে না,

কতবার পা পিছলেছে তোমার-

সব পিছনে ফেলার আনন্দে তুমি

সামনে তাকাতে ভুলে যাও;

আর মুখ থুবড়ে পড়, ক্ষতবিক্ষত হয়ে।

সেসব দেখে আমার সহ্য হয় না – আসলে…

আসলে তোমায় যে আমি বড্ড ভালোবাসি গো।

যার প্ররোচনাতেই হোক, এদের মিলন হল-

আর জন্ম নিল – ‘প্রেম’।

 

শান্তির আশায়

নীল

 

পূনশ্চ ঃ আর লেখা দিতে লেট হবে না। মা কালীর দিব্যি… সাথে মা জগদ্ধাত্রীরও…

 

 

Kolkata, My Lonely city of Joy…

John Denver said (or rather, sang) “The wiser man than I might know, the seasons of the heart”. And he can’t be more correct. There are seasons of Overjoy, Bliss and off course, loneliness. And it was a moderately cold day of winter, and I felt the need of going out for a long walk; as for no particular reason, I felt lonely and sad. So, I started from my home in Tala, with nothing but a camera and a backpack. I had no place that I’ve had to reach, so I pretty much followed my nose wherever it took me. That day, I thought, after so many vivid and vibrant photographs, why not try something, old school? So, I put my picture control into “Monochrome”; and so my journey began. Kolkata in Monochrome, Kolkata in Greyscale…

DSC_0008_HDR (2)

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

From the Middle of Tala Bridge, the Kolkata Station looked, well… Lonely

Not many trains were there, many of them left the station behind just like a necessary shelter before the ride to their goals.

DSC_0011_HDR (2).jpg

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

Netaji is conveniently camouflaged in front of all the advertisements.

This reminded me about that famous poem by Shankha Ghosh “Mukh Dheke Jay Biggapone”. Now, who can call Shyambazar a lonely place, right? But it felt like, nobody even cares where they are, as all of them has places to go and places to be…

Then, I took a ride on metro, and got down in Esplanade.

DSC_0029_HDR (2)

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

The Metropolitan Building, stood up like a white mausoleum in the busy crossing of Esplanade.

Looking through the camera, it may not look lonely, but it definitely looked sad. So, I kept walking, moving forward…

DSC_0039_HDR (2).jpg

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

From the top of Sriram Arcade, S S Hog Market Looked crowded…

But what about its soul? This building is considered as one of the places, that still reeks of “Calcutta”, but I don’t know, maybe I was spreading sadness to everything…

DSC_0054_HDR (2).jpg

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

The Indian Museum looked like an old man, resting in shade…

Really! this guy looked old and tired, just resting…

So, I started towards Maidan, from there, towards Victoria Memorial

So He Spoke-2

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

There are two of them, guarding the entrance of The Memorial…

But, the way they looked at each other, I saw nothing but hubris of their own existence. So, there they were, together, face to face, alone…

Memorial

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

The Memorial Building looks like a Glamourous Model? I don’t think so…

While I was taking this shot, lot of people were in the compound. But is it just me? Or does she looks really sad?

Shadow Bliss

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

Looking at The Victoria Memorial Again from Race Course.

She looked like a beautiful white dove in a cage…

Pori

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

Even She Agrees with Me…

Nandan

(c) Neelotpal Sinharoy, All rights reverved

My Journey ends, as my legs start protesting, and so does my stomach…

While my way home, I realized if you’re sad, and lonely even, how it can affect everything you do… As if you look to everything through a filter of sorrow… So, at the end of the day, I threw away the filter and decided to be happy…

 

Peace…

Neel

 

Sorry…

No post this week… Sorry… Exhausted after Kali Puja and Diwali… Although this is a pretty creative weather; but I need a little bit of rest… I will be back though, next week… I promise…

Peace..

Neel

অথ ফেমিনিজম কথা…

সতর্কীকরন লেখার ভাষা অতিরিক্ত চাঁচাছোলা, রাখঢাক নেই। ছুৎমার্গ থাকলে, পড়বেন না। আর মনে রাখবেন, লেখক ফেমিনিস্ট নন, কারণ তিনি ফেমিনিজম এর সাধারণ সংজ্ঞাটি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন। তাই তার এই ব্লগ পোষ্টটিকে আবালের বালখিল্যতা মনে করে খ্যামাঘেন্না করে দিলেই খুশি হব। পাঠক/পাঠিকাগন যদি তাতে ক্ষান্ত না হন, তাহলে সারাহা বা পোষ্টটির কমেন্ট সেকশন এ গালিবর্ষন করুন; যতদুর জানি এটা তো এখনো গনতান্ত্রিক(!) দেশ

ঘটনাটার শুরু আজ নয়। অনেক অনেক বছর আগে; মানে এই অগ্নীশ্বর চক্রবর্তীর আগে, নির্ভয়ার আগে, কামদুনির আগে, আর অনেক লক্ষ লক্ষ মেয়ে ধর্ষিতা হওয়ার অনেক অনেক বছর আগে, পুরুষ এবং নারী একে অপরকে আবিস্কার করেছিল। আমাদেরই পূর্বপুরুষ কোন নিয়ান্ডার্থাল বা ক্রোম্যাগনান, শুধুমাত্র যৌনচেতনার বাইরে, অন্য দৃষ্টিতে দেখেছিল বিপরীত লিঙ্গকে, হয়তো জন্ম দিয়েছিল প্রেমের।

আর তারপর, ধাপে ধাপে, সভ্যতা নামক জাঁতাকলটির উন্নতির সাথে সাথে, মানুষ আর একটি জিনিস শিখেছিল, কেড়ে নিতে, বঞ্চিত করতে। আর মানবিকতার অবনমন ঘটেছিল ধাপে ধাপে। ‘সম্পত্তি’র উৎপত্তির সাথে সাথে, যা বাহুবলে রক্ষা করতে হয়, এমন সব জিনিসই হয়ে উঠেছিল সম্পত্তি। আর পুরুষের অজান্তেই হয়তো, তার জীবনসঙ্গিনী নারী, হয়ে উঠেছিল পণ্য, যা রেখে ঢেকে, বাঁচিয়ে না রাখলে, চুরি বা ডাকাতি হওয়ার প্রভূত সম্ভাবনা ছিল।

আর তাই যুগে যুগে, দেশে দেশে নারীরা পণ্য, ভোগ্যবস্তু, সম্পত্তি, সাম্রাজ্য হয়ে উঠেছে, সে ট্রয়ের হেলেনই হোক, বা চিতোরের রানী পদ্মিনী। আমাদের মহাকাব্যও রেহাই দেয়নি তাদের। পাঁচ ভাইয়ের এক বৌ; ভাবা যায়! স্বামীর প্রতি ‘লয়ালিটি’-এর পরীক্ষা দিতে, এক মহিলাকে আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটানো হল, আর রাজার ধর্মের খাতিরে, সেই মহিলার স্বামী সব ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে দেখল। অন্যদিকে ৫ ভাইয়ের এক বৌ হয়েও শান্তি নেই, এক ‘রিগড’ পাশা খেলায়, সেই বৌকে বাজি রাখল পাঁচ ভাই। আর হেরে যাওয়ার পর, সেই কমন বৌয়ের যখন ভরা সভায় কাপড় খুলে নেওয়া হচ্ছে, তখন ও সেই পাঁচ ভাই ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকলেন, কিছু করতে পারলেন না, ধর্মের খাতিরে। ভাগ্য ভালো, হিন্দু পুরাণের ‘সার্টিফায়েড ক্যাসানোভা’ আশেপাশে ছিলেন বলে, সেযাত্রায় ভদ্রমহিলার মান বেঁচে গেল। আরো হাজার হাজার উদাহরন আছে। ইতিহাস থেকে পুরান, ক্লিওপেট্রা থেকে অহল্যা, সকলেই পুরষের কেড়ে খাওয়া স্বভাব আর অনিয়ন্ত্রিত যৌনচাহিদার স্বীকার হয়েছেন, পরে, এমনকি আজও, তাদের দুঃখে চোখের জল ফেলে সবাই বলে/বলেছে; ‘আহা রে!’

এবার একটু ইতিহাসের কথায় আসা যাক। রাজাদের যখন ভরা যৌবন, তখন যুদ্ধটুদ্ধ করবেন, কয়েকটা নিরীহ লোক খামখা মারা যাবে, এ তো জানা কথা, সে আলেকজান্ডার থেকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য, যে-ই হোক না কেন, লোক না মেরে তো আর যুদ্ধ করা যায় না; ওদিকে ছোট ছোট রাজাদের বিপদ। ধরুন, আপনি হলেন সেরকম একটা ছোট রাজ্যের রাজা, সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠে গোলাপজল দিয়ে মুখ ধুয়ে ভাবছেন, ‘এবার প্রাতকৃত্যটা সেরে ফেললেই হয়’ এমন সময় হৈ হৈ কান্ড, রৈ রৈ ব্যাপার। রাজ্যের সীমানায় কোন এক রাজা, আর তার যা সেনাবাহিনী, আপনার পাকা মাথায় অত চুলও নেই। কি করবেন? সাদা ফ্ল্যাগ ওড়াতে, বা একটা কচি ছেলের সামনে হাঁটু গেড়ে বসতে গায়ে লাগে, কিন্তু যুদ্ধে গেলে একেবারে কচুকাটা হয়ে যাবেন। তাই প্রাতকৃত্য মাথায় উঠল, আপনি ছুটলেন সেই কচি রাজার কাছে।

‘বাবা, রাগ কোরো না, তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দেব…”

ব্যাস! হয়ে গেল! বলেইছি না, সম্পত্তি! আপনার মেয়ে নামক কারেন্সি দিয়ে আপনি কচি রাজার কাছে ইমিউনিটি আর সিকিওরিটি কিনে নিলেন। আর এই কচি রাজার তাই রাজ্যপিছু একটা করে ট্রফি ওয়াইফ প্রাপ্তি হল। ট্রফি ওয়াইফ পিছু একটা করেও বাচ্চা হল ধরুন, মেয়ে হলে কারেন্সি, লায়াবিলিটি, আর ছেলে হলে ভবিষ্যৎ, অ্যাসেট। এবার কচি রাজার আরো কচি ছেলেরা রাজ্য নিয়ে কেটেকুটে মরবে, উলুখগড়ার সাথে সাথে রাজার রাণীদের আর রাজকন্যাদের পিতৃধর্ম, পতিধর্ম পালনের নাম নিয়ে কেনাবেচা হবে, তাদের শরীর নিয়ে দেওয়া হবে হরির লুট। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই নারীদের কথা শুনে, বুকভরা কষ্ট নিয়ে বলবে, ‘আহা রে!’।

তারপর হল গিয়ে সার্ব্যজনীন বিধবা পোড়ানোর উৎসব। সতীদাহ নিয়ে কম জলঘোলা হয়েছে? রামমোহন রায় রাজা ছিলেন, তাতেই সাতঘাটের জল খেতে হয়েছিল তাকে। রাজা না হলে আর এস এস এর পূর্বসুরীরা পশ্চাৎদেশে ত্রিশূল গিঁথে, শিককাবাব বানিয়ে ছেড়ে দিত। আসলে, সংস্কার-বিধি-নিয়ম এসব এক থেকে আরেকে জন্ম হয়। বল্লাল সেন চালু করলেন কৌলীন্য; ফলাফল বুড়োর কপালে একটা কচি বউ। বুড়ো মরল সম্পত্তি রেখে, আর রইল কচি বউ। এখন কথা হল, সে সম্পত্তি পাবে কে? পাবে তো সেই কচি বউ! কিন্তু তাহলে বাকি ‘পুরুষ’ সদস্যরা কি আঙ্গুল চুষবে? কভি নেহি! কচি বউকে পুড়িয়ে মারো। শুধু তাই নয়। বিদ্যাসাগর মশাই বিধবা বিবাহ চালু করেছিলেন। তার আগে কি ছিল?

স্বামী মারা গেছে? -সাদা থান পড়ো। মাথাও কামাও। রোজ সকালে উঠে তোমার মনে পড়বে যে তোমার নিজের লোকটি আর নেই। ডিপ্রেশন আসবে পাইকারি দরে।

স্বামী মারা গেছে? -ফুল নিরামিষ খাও। প্রোটিন ইনটেক মিনিমাইজ করো। নাহলে তাড়াতাড়ি মরবে কি করে? পুড়িয়ে মারা মানা যখন, না খাইয়ে মারি।

এরকম হাজার খানা নিয়ম ব্যাখ্যা করে দেখা যেতে পারে যে এন্ড রেজাল্ট একটাই। আমার মত আনকোরা আঁতেলরা এসব কথা ভেবে বলবে, ‘আহা রে!’

072623267895410caa6f25164c9df7c0_18

ছবির ঋণ – আল জাজিরা সংবাদপত্র

তবে এসব হল গিয়ে, পুরাণ আর ইতিহাসের কথা। এই সামান্য ‘আহা রে!’ টুকুও কি কপালে জোটে আমাদের সমাজে একটি মেয়ে, যে কারোর বিকৃত যৌনতার স্বীকার হয়েছে? না! আমরা ৫০০ টাকার টিকিট কেটে, মাল্টিপ্লেক্সের স্ক্রীনে প্রাক্তন পর্ণস্টারের অর্ধউলঙ্গ নৃত্য দেখে অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলি, আর একজন ধর্ষিতাকে রাস্তায় দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নি। কারণ, মেয়েটির শরীর আর পবিত্র নেই। কেন? কারণ কোন এক মানুষরূপী পশু, তার দেহের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। মেয়েরা আজও অনেক ক্ষেত্রে কারেন্সি না হলেও স্ট্যাটাস সিম্বল তো বটেই। তাই আজও বিয়ের কথা বলার সময় প্রথম প্রশ্ন হয়,

‘আপনারা কি জাত?”

কারণ, ব্রাহ্মণ সন্তান, সে কি আর অজাত কু-জাতে বিয়ে করতে পারে ? উহুঁ।

শুধু ব্রাহ্মণ বলে নয়, সব জাতই তার নিজের আপন জাত্যাভিমানের জাঁতায় পিশে চলেছে অনেক জীবন, সেটা অবশ্য, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। অন্যান্য প্রদেশে, মানে যেখানে এখনো ঢালাও হারে ‘অনার কিলিং’ চলছে, সেসবের কথা না হয় বাদই দিলাম, কারণ সেখানেও ভিক্টিম নারী-পুরুষ উভয়েই।

আমাদের খোদ কলকাতা শহরে বা শহরের কাছেপিঠে এরকম অনেক অনেক পরিবার খুঁজলে পাওয়া যাবে, যেখানে বিধিনিষেধের নামে মধ্যযুগীয় পর্দাপ্রথা চলছে রীতিমত।আর আজ, আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বসে তালিবানীরা কিভাবে মেয়েদের মাংসের মত ব্যবহার করছে ভেবে কান্নাকাটি করছি।

নীজেরা কি করছি? সত্যি কথা বলতে, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একটা জন্তু বাস করে, যে মায়ের স্নেহে, দিদির আদরে বড় হয়েও, বয়ঃসন্ধিকালের পর থেকে মেয়েদের ভোগ্যপণ্য ভাবতে চায়। সহপাঠিনির ছবি দেখে হস্তমৈথুন করে এসে ‘শিভালরি’ আর ‘ফেমিনিজম’ এর বুলি আওড়ায়। ফেসবুকে একটি মেয়ের ছবিতে কমেন্ট করে ‘নাইস বুবস’। যুগের পর যুগে ধরে, আমরা তো মেয়েদের সম্পত্তি, যৌনযন্ত্র, ভোগ্যবস্তু ছাড়া কিছু ভাবিনি; আমরা ফেমিনিজম বুঝব কি করে?

তাইতো আমরা বলব, ওই মেয়েটার পোশাক খারাপ। ওই মেয়েটার চরিত্র খারাপ। ওই মেয়েটা আমার প্রেম প্রত্যাখ্যান করেছে। তাইত ওকে ধর্ষন করার হুমকি দিয়েছি। আমার কি দোষ? আমার মত ভদ্র ছেলে আর দুটো হয় না। পাড়ায় জিজ্ঞেস করে দেখবেন।

ওই মেয়েটা আমাকে চোখের ইশারা করেছিল। পরে গায়ে হাত দিতে ন্যাকামো শুরু করল। তাইতো রাগের মাথায় রেপ করে ফেলেছি। পুরুষসিংহ তো; রাগলে আর মানুষ থাকি না দাদা! আমার কি দোষ?

তাই দোষ আমার না। কারোর কোনও দোষ নেই। আমার মনে হয় গোটা দেশের সব জেলে, যত কয়েদি আছে, যারা ধর্ষন-শ্লীলতাহানী ইত্যাদির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক। আর আসল দোষীদের পোড়া হোক জেলে, সিন্দুকে। যারা এখনো আমাদের কাছে শরীর, এখনো আমাদের কাছে কারেন্সি, এখনো ভোগ্যবস্তু, তাদের। তাহলে জেলের গরাদের ওপারে তাকিয়ে আমরা বলতে পারব, আমরা ফেমিনিজম শিখেছি…

শান্তির(?) আশায়

নীল

সাপ লুডো খেলছে বিধাতার সঙ্গে…

কপাল গুনে জীবনে দু-একবারের বেশী ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়নি আমায়। তাই ডাক্তারের চেম্বারের ভীড়, অ্যাপয়েন্টমেন্টের সমস্যা, সবই এড়ানো গেছে। যাই হোক, কয়েকদিন আগে এক ডাক্তারের চেম্বারে যেতে হয়েছিল, একজনকে ডাক্তার দেখানোর জন্য। ডাক্তার বা রোগীর নাম উহ্য রাখলাম, কারণ সেটা প্রয়োজনীয় নয়। তবে এই ডাক্তারবাবু একজন সাইকায়াট্রীস্ট। রোগীটি আমি না, যদিও অনেকে মনে করেন সেটা আমারই হওয়া উচিত- যাকগে; চেম্বারে বসতে গিয়ে আমার চক্ষু চরকগাছ। আরিব্বাবা! কি ভীড় রে মাইরি! যেন গোটা কলকাতার তামাম পা… মানে মনোরোগী এই ডাক্তারখানায় এসে জুটেছে। বসে রইলাম, আমাদের ডাক আসার আগে, অনেক রোগী এল… গেল… ব্যাপার হল, তাদের বয়স ৮ থেকে ৮০; স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা থেকে রিটায়ার্ড প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া। এসব দেখতে দেখতে, হঠাৎ কেমন গুলিয়ে গেল।

Nashirul-Islam.jpg

স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা ? তারও মনোরোগ ??

দেখেই কেমন দুম করে মনে হয় সবই মা-বাবার দোষ, চিরাচরিত হিসাবে। স্কুল-কোচিং-ক্রিকেট-গান-নাচ সব কর। তারপর রেজাল্ট খারাপ হলে বকুনি; আর যদি ডিপ্রেশন এসেই যায়, চিন্তা নেই বাবা! সেরা ডাক্তার দেখাবো; কিন্তু চাপ কমানো তো যাবে না ! কারণ সেখানেও সেই ‘শর্মাজি কা বেটা’ সিচুয়েশন।

পাশের বাড়ির পল্টুর তো রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে না! তোমার কেন হবে? মেধা? টিউটরের ওজনে আমরা মেধার পাল্লা উলটে দেব। এইসব কথাগুলো কেমন ঝরঝর করে মনের মধ্যে ঝরে পড়ল। আর তারপরই মনে হল,

কে আসলে অসুস্থ ?

চেম্বারে যারা ভীড় করেছে তারা, নাকি আমি, যে মেনে নিতে পারছি না, যে কর্পোরেট যুগের ইঁদুর দৌড়ে শরীর মন মন নষ্ট হবে, সেটাই স্বাভাবিক, সেটাই নতুন বাস্তব; আগামী প্রজন্মের শিশুরা মাতৃদুগ্ধে গুলে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট খাবে, সেটাই ভবিষ্যৎ।

মানতে পারলাম না। তাহলে কি ভবিষ্যতে এভাবেই বেড়ে চলবে মনোরোগীর সংখ্যা? তাহলে কি আমাদের আগামী শুধুই ‘সাপ-লুডো খেলবে বিধাতার সঙ্গে’ ?

 

জানি, পুজো শেষের ডিপ্রেশন পোস্টে ফুটে ফুটে বেরোচ্ছে, তবু, আমি অপারগ। কথাগুলো জমানো ছিল, উগড়ে দিলাম।

 

শান্তির আশায়

নীল

 

পুনশ্চ ঃ পোস্টের হেডিংটা কবির সুমন (সুমন চট্ট্যোপাধায়)-এর ‘পাগল’ গানের লাইন। নীচে ইউটিউব লিংক রইল…

পাগল – সুমন চট্ট্যোপাধ্যায়

পূজো, সময়, আর ফ্যামিলি অ্যালবাম

বয়স বাড়ার সাথে সাথে, মানুষের কাছে সময়ের গতি বেড়ে যায়। কারণ, পরিস্কার বুঝতে পারি ছোটবেলায় পূজোটা অনেক লম্বা হত। শুরু আর শেষটা খুব সুন্দর করে বোঝা যেত। পূজোর মধ্যে একটা হার্টবীট বাড়িয়ে দেওয়া অনাবিল আনন্দ ছিল। আর পূজোটা শুরু হত ঠিক এইভাবে;

ভোরে ওঠার অভ্যাসটা আমার তখন ছিলই, আর বাবা একদিন হঠাৎই সকালে খুব উত্তেজিত হয়ে আমায় ডাকাডাকি শুরু করলে আবিস্কার করতাম ছাদের কর্ণারে রাখা শিউলি গাছের নীচে একরাশ তাজা ফুল পরে। গন্ধে ম ম করছে আশপাশ। অজান্তেই হেসে ফেলে বুঝতাম, ঢাকে কাঠি পড়ার দিন আর বেশী দূরে নেই।

Family

সময়-লম্ফ…

আগে বিশ্বকর্মা পূজোয় আকাশে ঘুড়ি দেখা যেত, আর ঘুড়ি ওড়াতে না পারলেও, ঘুড়ি ধরায় আমার উৎসাহের কোনো অন্ত ছিল না। প্রতি বিশ্বকর্মা পূজোর দিন খান ৪-৫ ঘুড়ি ধরে, সেগুলো প্রায় এক বছর ধরে জমিয়ে রাখার পর, অবশেষে ধুলোয় মাখামাখি হয়ে, ছিঁড়ে একাক্কার হয়ে তাদের পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটত।

মনে আছে, ভোর ৪টের সময় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলা কেমন রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরন জাগাতো। আর রেডিও শুরু হওয়ার আগে বাবা স্নান সেরে ঘরে ধূপ জ্বেলে দিত। রেডিওর আওয়াজ আর ধূপের গন্ধ… এরকম পরিস্থিতির বর্ণণা দিতেই বোধহয় ইংরেজিতে ‘মেসমেরাইজিং’ কথাটার উৎপত্তি হয়েছে।

যাই হোক। মহালয়া হয়ে গেলেই দিদি বলত,

-“দেবীপক্ষ পড়ে গেছে, এবার আমরা যা ইচ্ছে করতে পারি…”

আর আমাদের যা ইচ্ছে করা মানে হল পড়াশোনা শিকেয় তুলে দিয়ে, পিঠে পিঠ দিয়ে পূজাবার্ষিকী

Didi

অন্য এক সময়ের কথা…

আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী বা শুকতারায় ডুবে থাকা। বাবা মা এসে পাড়া মাথায় না করলে সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটত না। মহালয়ার পর সপ্তমী আসতে যেন এক যুগ লাগিয়ে দিত। এই এল, এই এল করে অবশেষে পাড়ার প্যান্ডেলে ঠাকুর আসত, চোঙা লাগিয়ে চালানো হত কিশোর কুমারের গান, আর ঢাকে পড়ত কাঠি। আমি আর দিদি তখন হাতে লিখে মেন্যুকার্ড তৈরী করতাম। সপ্তমী, অষ্টমী… রোজের। আর, একটা নয়, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য একটা একটা করে তৈরী হত সেই মেন্যু। মায়ের স্পেশ্যাল অকেশনের জন্য তুলে রাখা টেবলক্লথ পাতা হত টেবলে। সব মিলিয়ে খাবার ঘরটাকে একটা রেস্তরাঁসম মেকওভার দেওয়ার চেষ্টা করতাম আমরা; অনেকাংশে সফলও হতাম। আর মায়ের দায়িত্ব ছিল সেই মেন্যু মিলিয়ে মিলিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরী করে টেবলে সাজিয়ে দেওয়া।

Babai

আমি আর বাবাই…

বাড়ি সাজানো, আর বইয়ের পেছনে এত সময় দিতাম বলেই, পূজোয় ঠাকুর দেখতে যাওয়ার শখ খুব একটা ছিল না আমার। আসলে, বই মুখে গুঁজেই গোটা পূজোটা কাটিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতি ছিলাম আমি। তবে হ্যাঁ, পূজোয় ঠাকুর দেখতে না গেলে; স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের কাছে গল্প করব কিসের, পূজোর ছুটির পড়ে ? আর আমার বেরোনোর আর একটা বৃহৎ কারণ হল, টালা বারোয়ারির মেলার হাজার খানা দোকান, নাগরদোলা আমার বড় পচ্ছন্দের জিনিস ছিল। আর তাই, পূজোর কোনো এক বিকেলে কাকার সাথে ঠাকুর দেখতে বেরোতাম। ঠাকুর দেখা মানে হল আমার পাড়ার আশেপাশে যে কটা ঠাকুর আছে, সেগুলো গুনে গুনে দেখা, যাতে বলতে পারি স্কুলে গিয়ে, আমি এই অ্যাত্তগুলো ঠাকুর দেখেছি। ঠাকুর দেখার শেষে, মেলায় গিয়ে কিছু একটা কেনা; (শুধু নীজের জন্য নয়, আমার জন্য, দিদির জন্য, আমার পিসতুতো দিদি, বোনের জন্য) তারপর বাড়ি ফেরা, ঐ শুরু, আর ওই একদিনেই আমার তথাকথিত ‘প্যান্ডেল হপিং’ এর ইতি।

বাবা কোনকালেই পূজোর সময় বাড়ির বাইরে বেরোবার পক্ষপাতি নন, তার কাজ ছিল আমাকে সময় আসময়ে পূজাবার্ষিকী পড়ে শোনানো। কারণ নীজে বই ধরার আগে থেকেই, গল্প শোনার ভূত আমার মাথায় বসবাস করত। আর বাবার একটা দায়িত্ব ছিল। মানে যাকে বলে পেইনফুল ডিউটি; সেটা হল দশমীর দিন বিকেল বা একাদশীর দিন সকালবেলা থেকে কান ধরে আমাকে পড়তে বসানো; কোনো ওজর আপত্তি না শুনে।

মোটামুটি এই ছিল আমার পূজো; আমাদের পূজো…

তারপর অনেকগুলো বছর কেটে গেল। আজকাল কাকার সাথে পাড়ার পূজো দেখে মন ভরে না, আসলে শুধু আমিই তো বাড়িনি, বয়স বেড়েছে কাকারও। আমার বাবাই আজকাল হাঁটুর ব্যাথায় কাতরায়। প্যান্ডেল হপিং তো দূর, সাধারণ ওয়াকিং এও বেশ সমস্যা।

দুটো পূজোয় দিদি কাটাল মার্কিন মুলুকে, আর তাই উৎসাহভরে মেন্যুকার্ড তৈরী আর হল না। টেবিলও যে কে সেই রইল। আর এই বছর দিদি দিল্লীতে সংসার পেতেছে। দূর্গাপূজোর স্বাদ তাই মেটাচ্ছে নবরাত্রি আর দশেরা দিয়ে। মা ও তাই মেন্যুর অপেক্ষা না করে খাবার তৈরী করে। আগের মত আমিও তো আর রোজ রোজ বাড়িতে খাই না।

IMG_20170927_120254041

একালের পূজো…

বাবারও ডিউটি শেষ, পূজাবার্ষিকীটা নীজেই পড়ি, আর বিজয়ার পরের দিন থেকে নীজে নীজেই বই খুলে বসে পড়ি সেমেস্টারের তাগিদে। আর পাড়ার পাশেপাশের ঠাকুর ছেড়ে আমিও আজকাল কলকাতার নামি দামী পূজো প্যান্ডেলের গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে পড়ি। ঠিক ঠাকুর দেখার তাগিদে নয়, আড্ডা আর অনিয়মের সন্ধানে।

তাই আমার পূজোটা বদলে গেল। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের গলায় আর সেভাবে গায়ে কাঁটা দেয় না; আলাদা শুই বলে ধুপের গন্ধটা নাক অবধি পৌছোয় না। আর মহালয়ার পরও ক্লাসে যেতে যেতে, পূজোর সেই লম্বা ব্যাপারটা আর নেই। আসে, চলেও যায়, আবার আসার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। বছরের বিশেষ দিনের বদলে, পূজো আজকাল রুটিন হয়ে গেছে, সেই রুটিন, যেটা বছরে একবার রিপিট করে। সেই শিউলি ফুলের গন্ধ মাখানো নস্ট্যালজিয়া নয়…

যাই হোক, অনেক বেশী বকে ফেললাম আজ… শেষে বলি, প্রতি বছরের মত আবার আজ অষ্টমী; আর তাই বিগত সময়ের দীর্ঘশ্বাস এর বদলে, আগামীর শুভেচ্ছা দিয়ে লেখাটা শেষ করাই বাঞ্ছনীয়। সবার জন্য তাই রইল অনেক অনেক শারদ শুভেচ্ছা। পূজো খুব ভালো কাটুক, অনেক ভালো ভালো স্মৃতিতে ভরে উঠুক সবার জীবন, এটাই কামনা করি।

শান্তির আশায়…

নীল

Indebted…

I know… as far as clichéd headings are concerned; this one takes the
trophy. But still, what I’m about to write, can’t be written under anything
else.
Anyway… Enough of explaining myself; now here’s what I want to talk
about. We all have a life debt to our parents, right? But if one just sits
and thinks about it; what has your parents done for you that you’re most
thankful for? Is it all the clothes they bought? All the food they fed you?
I mean that’s what parents do, right? But, just think about it; all those
years you’ve been alive, what is the single act or gesture that you think
defines your entire life?

406822_2886493559429_1237604872_n

Like Father, Like Son…

I know… I’m in that gibberish zone again. But anyway. Let’s get to the
point. I’m bombarding you with these questions because, I think there
is something that my father has done for me, for which I’m indebted to
him, forever. If I think more closely I can certainly say, that one act has
defined me… shaped me into the person I am today.
I was in 4th or maybe 5th grade. An ever so dreamy kid, fan of Tintin
(Georges Remi) and Kakababu Stories (Sunil Gangopadhdhyay).
Among the stories, my favourite ones were those of the treasure hunts;
like Vijaynagarer Heere, Mishor Rohosyo, also Red Rackham’s Treasure
and Prisoners’ of Sun. So for me Searching and finding adventures in
every corner of my house and school building was an everyday affair.
Now, I had a friend named ‘Nilimesh’. One day, in class I saw him
drawing something on the back of his notebook. I was curious and
when I asked him about it, he told me it was a treasure map!
I WAS EXCITED !!! AND EUPHORIC !!!

A REAL TREASURE MAP FOR GOD’S SAKE !!!

And then I saw he was drawing treasure maps on the back of
everyone’s notebook. I mean everyone had a treasure map on the back
of their Notebooks except for me !!!
I almost begged him to draw one for me, and he did. That day I came
back home jumping in joy and smiling. I had a treasure map! I’m going
for a treasure hunt! I’m going to unearth golds and jewels and who the
hell knows what else! But, the way the map is drawn, I can’t go alone. I
need help in big way. I need my father’s help.
It was a Saturday. I was home by 10.30 and freshened up by 11.30. I
went to my father and told him I have a treasure map. He asked me to
show it to him. I did. He observed it for quite a while and then said;
-“Okay, tomorrow is Sunday, we will go together in the afternoon to
hunt for the treasure.”

I counldn’t sleep that night! I took out all my books from my school bag
and stuffed it with important things, like a flashlight, ropes (who knows
where do I have to climb?), mosquito repellents, gloves and many
other things I don’t remember. I was unable to find a shovel. Which I
needed the most, but my father told me;

-“We will make do; there are many tools in the car!”

So, on the next day, we went out. Me, Father and Our Cook, Rabida.
(Father told me Rabida knows the area where we are going.) So, after
a very short drive, we ended up in a rather ghastly looking North
Kolkata neighbourhood. This is where the map had led us. But I was
heartbroken. There were no ruins, and specially no ‘X’ to mark the
spot. But my father was much more optimistic. So, we knocked on
almost every doors in that neighbourhood, and asked them

-“Excuse Me, Is there a treasure in your house?”

We are lucky nobody chased us with sticks and brooms. But after
asking door to door I was heartbroken, we came back and sat in the
car. My father said,

-“Well, at least, we tried…”

I said,

-“Ya, these houses are so well maintained, no way there could be
treasures here.”

-“It’s ok, let’s go have some Ice Cream.”

So, we three came back home after having one Black Current Sundaes
each.
I’m 24 now, all these things that my father did that day, would seem
insane to any one of my age. And my father was 53 then. Yet he
indulged in my imagination and craziness; when most of the kids will
get scolded and marked as batshit crazy, even then. Even I don’t know,
If I’m a parent someday (Gods help me!); will I be able to do the same
for my child? I really don’t know!
I really hope, that day comes, when me and my daughter or son, try to
do something crazy, and fail, so that I can buy her/him an ice cream
and say,

-“Well, at least, we tried…”

But like I said. This imaginative, crazy, weird individual that I’ve turned
into today; I owe it to him. To my father. And mother and sister also;
because they never resisted us. Now, My father is 66 now, and like all
father-son relationships, we fight. But every time when I’m very angry
with him, someone inside me says;

“Did you went to that treasure hunt alone?”

Peace…

Neel

 

ম্যায় সারথী হুঁ…

আমার স্কুলের এক সিনিয়র দাদা একবার ফেসবুক-এ বহুদিন আগে লিখেছিল, কলকাতা আমাকে অবাক করে দেয়। আর দুদিন আগে যে ঘটনাটা আমার সাথে ঘটল, তারপর আমিও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে কলকাতা আমাকে বারবার অবাক করে দেয়। কারণ অপ্রাত্যাশিত এমন কিছু চমক পাওয়া যায় কলকাতার রাস্তাঘাটে, সেটা শুধু অকল্পনীয় নয়, ইংরেজীতে যাকে বলে ‘জ ড্রপিং’, ঠিক তাই। আর এত গৌরচন্দ্রিকার কারণ হল, গত সোমবার, একটা ১৫ মিনিটের ওলা রাইড, আমার… যাকে বলে ‘চোয়াল-পতন’ ঘটিয়েছে।

এবার ঘটনায় আসি। এখানে আমি একা ছিলুম না। সঙ্গে ছিল আমার ভাই তুহিন। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ফড়িয়াপুকুরের মোড় থেকে দুই ভাই একখানা ‘ওলা শেয়ার’ বুক করে অপেক্ষা করছি। সঙ্গে মালপত্তর। ৫-৬ মিনিট অপেক্ষা করার পর গাড়িটির অবির্ভাব ঘটল। চালকের আসনে মাঝবয়সী শশ্রুগুম্ফসম্বলিত এক ব্যাক্তি। গাড়িতে উঠে বসে যাত্রা শুরুর পর পরই এক বাইকওয়ালার সাথে কিঞ্চিৎ বাকবিতন্ডা হয় তার। আসলে ঠিক বাকবিতন্ডা নয়, বাইকওয়ালা ঝগড়ার উপক্রম করতেই, তিনি বার তিনেক ‘সরি’ বলে আবার যাত্রা শুরু করলেন; আর বলে উঠলেন-

-“ইংরেজরা এমন একটা শব্দ দিয়ে গেছে, ব্যবহার করব না ?”

Subhash

“ওলা-সারথী”

কথাটা শুনে বেশ হাসিই পেল। শ্যামবাজারের দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে চলতে চলতে তিনি বলতে থাকলেন যাত্রীদের কথা। কারা কেমন ব্যবহার করেছে, কবে কার ব্যবহার শুনে কান্না পেয়ে গেছে। হঠাৎ বলে উঠলেন;

-“জীবনে দুঃখ সহ্য করার ক্ষমতা আমার আছে, কপালে সুখটাই সয় না…”

আমি বলে উঠতে যাচ্ছিলাম কিছু একটা, হঠাৎ তিনি আবার বলে উঠলেন,

-“এ ব্যাপারে আমার একটা কবিতা আছে…”

ব্যস… আর জি করের মুখ থেকে টালা অবধি, একটা গাড়ির বন্ধ কাচের আবডালে নিয়ন্ত্রিত শীতাতপের মধ্যে চলল কবিতার মেহফিল।

আমার স্বপ্নবিভোর কবিতার সামনে তার কঠোর বাস্তবধর্মী শ্যায়রির মোলাকাত হল।

নিজেই বললেন,

-“আসলে, আমার কবিতাগুলো একটু নজরুল ঘ্যাঁষা।“

হিন্দি-বাংলা দুই ভাষাতেই কবিতা শোনালেন, তবে বুঝতে পারলাম হিন্দিতেই বেশী স্বচ্ছন্দ। ওলা অ্যাপে নাম দেখেছিলুম ‘জয় সুভাষ সিং’। জিজ্ঞেস করলাম ফেবুতে আছেন কিনা। ইতিবাচক উত্তর পেয়ে ফেবু অ্যাপটা খুলে প্রোফাইল নেম জিজ্ঞেস করতে বললেন

-“ড্রাইভার সুভাষ।”

আবার অবাক হলাম। প্রোফাইলটা খুঁজে পেয়ে একটা বন্ধুত্ব নিবেদন করতে করতেই পৌছে গেলাম বাড়ির দোরগোড়ায়।

তখন সময় পাইনি, পরে ভালো করে খুলে দেখলাম তার প্রোফাইল খানা… তখন তাঁরই কমবয়সের একটা ছবি দেওয়া ছিল, আর প্রোফাইলের ট্যাগলাইন হিন্দি হরফে লেখা

“ম্যায় সারথী হুঁ”

ব্যাস…

কোনো রাখাঢাক নেই, কোনও ভনিতা নেই, তাই নামের শেষে পদবি না লিখে নামের আগে লিখেছেন ‘ড্রাইভার’; আর ওই সোজাসাপটা ট্যাগলাইন… তাই কলকাতা আমায় আবার অবাক করে দিল। কলকাতা বলেই এটা সম্ভব হল। তন্ময় মুখার্জী-এর ব্লগ ‘বংপেন’ এ একটা লেখা ছিল। যেটার নাম ইন্টারভিউ। সেখানে মানবরূপী কলকাতার মুখে একটা ডায়ালগ ছিল।

-“আমরা আলুভাতে ভাত খেয়ে সবপেয়েছি বলে দুহাত তুলে নাচতে পারি।“

আর পারি বলেই, স্টীয়ারিংয়ের পেছনে বসা কবি যেমন তার সত্ত্বাকে ভোলে না, তেমনি কবিতা আবৃত্তি করতে করতে ড্রাইভার ভোলে না তার বাস্তবটাকে…

মাঝে মাঝে তাই ভাবি, আমরা যারা এত স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে বড় হয়েছি, মানে যেমন আমি, বিছানায় গা এলিয়ে ল্যাপটপে ব্লগ লিখছি, তারা পারব ? স্বাচ্ছন্দের অভাবে যদি পড়ি কোনোদিন, মনের ভাললাগার জায়গাটাকে পারব এভাবে বাঁচিয়ে রাখতে ? নাকি নীজের অক্ষমতা আর ডিপ্রেশন চাপা দিতে সব বিসর্জন দিয়ে দেব? আমরা কি পারব, বুক ঠুকে নামের আগে ড্রাইভার লিখে গাড়ির প্যাসেঞ্জারকে কবিতা শোনাতে?

জানি না, হয়তো জানতেও পারব না, তবে মনে মনে চাইব, পড়ে যদি কোনোদিন ড্রাইভার সুভাষের সাথে দেখা হয়ে যায়, ট্রিপটা যেন ১৫ মিনিটের চেয়ে বেশী লম্বা হয়। অনেক কবিতা শোনার বাকি আছে।

অনেক জানা বাকি আছে… জীবনটাকে…

শান্তির আশায়,

নীল

পুনশ্চ : নীচে প্রোফাইলের লিংক দেওয়া রইল, প্রমাণ হিসাবে। এবং আপনাদেরও সুযোগ রইল এরকম একজন অসাধারণ একটা মানুষকে জানার, চেনার…

ড্রাইভার সুভাষ

কিছু বাজে কথা, আর একটা কবিতা…

আসলে, প্রথম ব্লগ পোস্ট এর দিন কথা দিয়েছিলাম বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই পোষ্ট দেব, কিন্তু তারপর থেকে শুধু ইংরেজিতেই লিখে গেছি। আমার কিছু বন্ধু এবং বান্ধবী, যারা আমার ব্লগ নিয়মিত (!) পরে; তারাও অভিযোগ করেছে, আর বলেছে বাংলায় লেখা চাই। তাই এই দু-তিন লাইনে দায়সেরে, আর তারপর আমারই লেখা একটা কবিতা দিয়ে এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের পোষ্টটা শেষ করব।

আসলে এ সপ্তাহটা একটু ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, আমার এক বন্ধুর ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ায়। তাই লেখায় তেমন সময় দিতে পারিনি বলেই, কিছুদিন আগে লেখা কবিতাটাকেই এভাবে ‘পোষ্টিত’ করলাম।

লেখাটা ‘ডেডিকেট’ করলুম সেই ভাইটিকেই, যে কাল আশাকরি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবে, যার ভালো নাম ‘শুভম’, আর ডাক নাম ‘ঋষি’।

IMG_20170909_213225123-01

“আঁকিবুঁকি” – ছবির ঋণ ঃ সুতপ সিংহরায়

কবিতাটা কিন্তু আগে লেখা… আর তার অনুপ্রেরণা অন্য একজন। নাম বলব না, সে নিজেও বুঝবে, আর যাদের বোঝার, তারাও বুঝবে। আসলে নাম বলি বা না বলি, তার সুন্দর সেই হাসিটার সামনে, আমি নিতান্তই অসহায়; তাই হাসিটা দেখলেই গাইতে ইচ্ছে করে, ‘ওরম তাকিয়ো না, আমি ক্যাবলা হয়ে যাই’…

যাই হোক, এবার কবিতা, যার নাম “কবিতার ঘুম”

আজ আবার চোখে ঘুম আসছে;

গোধুলির পর, যেমন

ঝুপ করে নামে অন্ধকার;

তেমনই একটা আবছা

আঁধার নামছে চোখে…

যেমন গ্রীষ্মের প্রথম কালবৈশাখী;

ঝরিয়ে দেয় জীর্নতা, ধুলো

যা শীতের অলসতার সুযোগ নিয়ে

জমেছিল রন্ধ্রে রন্ধ্রে…

তেমন বৃষ্টিরই আর্দ্রতা মাখা একটা

নিদ্রার শিতলতা আসছে চোখে।

আজ আবার ক্লান্ত লাগছে;

যে পাখিটা সাতসমুদ্র পার করে

পরিযানের নেশায়;

সেও দুদন্ড জিরিয়ে নিতে চায় হয়তো,

নিজের ক্লান্তির হিসাব বুঝে নিতে…

সেরকমই আমার চোখ বুজে দেয়

বহুদিনের ঘুমের আবেশ;

তবু, মনে মনে ঘুমকে তিরস্কার করি;

আর খাতায় কাটি আঁকিবুঁকি…

হঠাৎ, তারা শব্দ হয়ে ওঠে;

আর না চাইতেও ভরে যায়

পাতার পর পাতা…

ঘুমের ক্লান্তিকে ছাপিয়ে তাই,

কলমের গায়ে কবিতা জড়ায়,

আর চোখ খুলে, ঘুম ভেঙে,

আমি লিখতে বসি…

শান্তির আশায়…

নীল

A Prose of Melancholy

I won’t lie to you. This is a result of an idea that was planted in my head. I won’t mention who it is, because he was quite drunk when he told me the story. But this post is the person I’ve created by adding flesh upon the skeleton he’s provided, and I’m grateful to have him as a friend.

 

“I shut my eyes and all world drops dead;

I lift my lids and all is born again.”

-Sylvia Plath

 

I don’t know what scared me the most. Was it the fact that I was standing at the edge of a cliff; In the horizon of an endless abyss, waiting; to engulf me. Or was it the pitch-black night that had fallen all around. Maybe it was the thunder and the lightning, that reminded me where was I standing, for a moment and then left me alone,

 

How did I end up here?

 

The answer was obvious. The years I’ve lived my life. The illusion of free will and freedom of choices had led me here. The path that I’ve walked, the roads I’ve taken and the place where I stand today, is of my own making. I brought myself here. But where do I go now? Maybe I can just walk back, one step at a time and go back where I came from? Maybe even back to the warm womb where I had nothing to worry and nothing to care about.

 

But that’s not possible.

 

I can only regret now. I can hear my mind telling me ‘if only’. ‘Choices’ are the most dangerous thing that any human brain has to offer.

 

I can hear a clock… tick-tock, tick-tock, tick-tock…

 

Is my time running out? Are my choices running out? I really don’t know. The thunder cracks again. A storm is coming. I can feel it in my face. I can feel the ice cold drops of water tickling down my cheeks.

 

Has my past finally caught up with me?

 

I tried to remember where I was yesterday. But everything seemed bit of a blur. One can easily remember where he’s been for the last few days, that is the basic purpose of memory. But somehow, I am out of luck. Maybe… If I can try a little harder… Maybe I’ll remember something.

19092681_860846284064427_5645062907217462914_o

“Set Me Free” – (C) Neelotpal Sinharoy, 2016, All Rights Reserved

 

As I started to think; closed my eyes and rattled my brain. When I opened my eyes, I was in a different place. I was in a city in fact… Standing in the middle of a road, all I could see was cars moving away from me and all I could hear is the cacophony of the traffic. It was daytime. So maybe this is where I was yesterday? The street seemed familiar. I know this place well. But still, something seemed off. As if something was missing. Something that was supposed to be there. But it is not. Then I realized. I can see no colors. And by that,

 

I mean that it seemed like the colors are squeezed out from everything. What remains are the stains of the ash; grey… lifeless… as if someone carefully burnt all the colors away.

 

And then I saw him…

 

A man… walking towards me. Surprisingly, he was the only painted object in this miserable street. As he approached me, I saw a disgusting smirk on his lips. I had nowhere to go… I can’t escape him… I had to stand as he stood in front of me and said,

 

“Do you write what’s right?

Is right’s what you write?

If you write things the right way;

Then write is your right way…”

 

This ridiculous poem, (if it can even be called that;) started ringing in my ears, like a loud church bell, growing louder and louder until it turned into a static which rang my eardrums like a merry-go-round. I closed my eyes, and covered my ears with my hands. Before I could do that, I saw that man, saw the whole street, everything is vibrating; as if I’m going into trance.

 

My eardrums are going to burst. It’s pure agony. I should be bleeding from my ears any moment now…

 

Then it all stopped. When I opened my eyes, I was in a mansion. In the master bedroom, In a king-sized bed; all alone. Before I could get down on the floor, a man walked in. He looked like a servant. Ever so gently, he put a velvet slipper in my feet, and left silently. As I came out of the bedroom, and came down the stairs, I smelled bacon. A warm breakfast was ready, and waiting by it were two more servants who looked the same. It was a lavish dining room. All sparkling, and a chandelier above my head. I could feel the floor carpet through the slippers. I could see oil paintings of men I don’t recognize. As I came near the dining table, one of those servants pulled a chair for me and the other one uncovered my plate. There was an angel sculpture on the table. It was a cupid. I looked at my plate. I had plenty of omelets, breads and bacons. Even more than one could eat. I looked in front, and saw the servant twins waiting for me to finish. Waiting eagerly. I looked around again. I had that uncanny feeling of things being out of place again. Am I the one out of place? Am I on someone else’s house? Or this is where I belong? As I picked up a piece of bacon from the fine porcelain plate and put it in my mouth. It felt like the best bacon I’ve ever had.

 

But that too for a moment.

 

That bacon turned sour in my mouth. It was bacon no more, just raw meat. I spit it out, furiously and next thing I know I woke up coughing in a room. An overly familiar room. A stinky, moist room. The red bricked walls reeked of saline moisture and rat droppings. The room had only one window and one door. The light from the window was sufficient

 

enough to keep the room lit, for now. I was wearing a shabby shirt and an equally shabby pants.

 

I know this place, all too well…

 

This room with brick walls and no furniture, but just a bed. This room which reeks of moisture, cold and… defeat…

 

“I shut my eyes and all world drops dead;

I lift my lids and all is born again.

(I think I made you up inside my head.)”

 

Peace,

Neel

 

P.S : Inbox Me, If You want to know who he is…

neelotpals@zoho.com / neelotpals.sarahah.com

 

 

 

Country Music, and A Broken Heart…

“All the Characters and Incidents in this article are fictitious and bears no resemblance to Reality. Therefore, hold your horses before you post a tirade in your comment, you’ve stumbled upon a garden variety Co-incidence…”

country

 

“Long Long Time Ago…

I can still remember how that music used to make me smile”

-Don McLean

 

When I was a kid; I never respected anyone’s privacy. Especially that of my elder sister. Actually, I never thought of her as an Elder; She is what… only 13 years older than me! But anyway, I was in 7th or 8th standard maybe, woke up every morning, and the first thing I did, was to go to my sister’s room and search her bag thoroughly; maybe I’ll find something interesting! Usually, there was nothing, except for a pen drive full of animated movies, but sometimes I used to find other things.

The day I’m talking about is the day I found a Pouch containing 2 CDs, marked as “Let’s Folk” Disc One and Two. Anyway, I thought it might be a movie, so I went to the drawing-room and put the first disc in the CD player. But there was no movie. I was a bit disappointed when the TV Screen displayed “Audio CD” and started playing a song. I immediately went to the second track, but this time, I heard something familiar.

 

“Down the Way, where the nights are Gay

and the Sun shines daily on the Mountain top…”

 

The words were not familiar, but the strain sure was. I remembered a Bengali song that I heard;

 

“Pother Prante oi Sudur Gnaay,

Jetha somoy thomke thame Boter chhay”

 

I stopped and listened to the song. Once… Twice… and then I lost count. Little did I know, I was listening to “Jamaica Farewell” by Harry Belafonte.

Like I said, I was just a kid, and like every other teenager, I felt like I was in love. And just like every other teenage love story, my love was one-sided. At that time, it felt like love and it felt real. But anyway…

I won’t tell you her name; but sometimes she made me wonder, am I invisible? Jokes apart…

Every day at school felt like a defeat; as if somehow I can make her at least notice me or something, but every day when I came back home, I had those two CDs to keep me company. By that time, I have heard many ‘iconic’ songs, like “Blowin’ in the Wind” (Bob Dylan), “Monday Morning” (Peter, Paul, and Mary), “Scarborough Fair” (Simon and Garfunkel), I never understood all of them, I never even knew who or what I was listening to at that time, but I liked them all. As time passed, and I came home every day reeking of sour defeat; I started trying to figure out exactly what I was listening to. I created a list, and I had so many names, some of which, I’ve already mentioned before. But anyway, nothing much excited happened till my secondary examinations. After that, I learned that there was a song on that CD, called “Annie’s Song”, and it was sung by someone named John Denver. So, out of the blue, I downloaded an album called “Best of John Denver” and boy! That was amazing! Rocky Mountain High, Country Roads, Seasons Of The Heart. I became a John Denver Fan overnight.

By the way, that girl, she was still in my class. And she still can’t see me, and I felt like screaming at her…

 

“Come let me love you,

Let me give my life to you

Let me drown in your laughter

Let me die in your arms…”

 

But as usual, nothing happened. By the end of the 11th standard, I was listening to Peter, Paul and Mary, The Brothers Four, Joan Baez. Then something spectacular happened.

3ae40c8dd0bb10f2caa30fc559d757f4--lover-tattoos-dream-tattoosThere was another girl… Well, she was not there before, but she is newly admitted to our school. And… She… Liked talking to me. Now, before things get more complicated I will assign two names for these two ‘girl type variables’

The old one is, say… Cecilia? and the new one is Emily; ok? So, Emily became my friend. I liked spending time with her, she was funny, witty and blah blah blah. Before I could realize anything, I started thinking about Emily, rather than Cecilia, and I don’t know why, but it felt like cheating (!) but before I could tame my treacherous heart, it was just drowning in the love of Emily. But lucky for me, she felt the same. So, on a warm December evening, during school recesses, behind the school compound, she said

“I Love You”

I felt like I was in some kind of trance, and before I could know, my heart was singing,

 

“I couldn’t hope to say how I feel, The joy in my heart no words can reveal…”

 

I remembered I was listening to Nana Mouskouri last night…

So, it began… as ridiculous as it might seem, me, a weirdo, a socially awkward introvert became the boyfriend of a beautiful girl.

But, before we could realize, our school life was over. We went to different colleges (obviously; I was the one wasting time listening to music, she was studying ) But, that was not so bad; I mean…

 

“Sometimes we grow together,

Sometimes we drift apart…” 

 

In college, I was exploring more and more country music; Seals and Crofts, Jim Croce, Don Mclean… the list was endless. And before I could understand, my life was as much dependent on her, as much as it was on Country Music. We had our problems, like every other couple; but we always seem to find the way to get back to each other. By the end of the college, we were closer than ever.

I had a bad habit of going against the usual, and ordinary; so, most of the times I ended up alone and people making fun of me, as my extravagant ideas always met an untimely demise. I felt like the Boxer, whom Simon and Garfunkel describes…

 

“In the clearing stands a boxer and a fighter by his trade;

And he carries the reminder of every glove that let him down

Or cut him till he cries out in his anger and his shame

I’m leaving, I am leaving but the fighter still remains.”

 

Maybe country music is what gave me some comfort, but she was the reason I carried on, never stopping and worrying about ‘people’. As embarrassing as it may sound, she indulged my craziness, and for sometimes I thought she even fuelled it. Kenny Loggins had a beautiful song; “Danny’s Song”; it goes like this

 

“People smile and tell me I’m the lucky one

And we’ve only just begun”

 

And the song progresses making some very brave and flamboyant promises; such as;

 

“And even though we ain’t got money

I’m so in love with you, honey

And everything will bring a chain of love

And in the morning, when I rise

You bring a tear of joy to my eyes

And tell me everything is gonna be alright”

 

That’s what she was to me exactly; “The girl who holds the world in a paper cup”.

brokenI never thought of my future, never planned ahead. Plans never work for me, I always focused on the present and moved forward. Because I’ve always thought whatever might happen in the future, I’ll always have her; she will take care of me, as I will hers. I never wanted to be a larger than life person, stuffed with fame and fortune; I just wanted to be a regular guy, living a regular life but having an extraordinary woman as a wife. I thought to be a teacher might suit my needs, after all, she is the ambitious one. So, I was thinking of focusing there, once my Masters’ Course was over.

It was 2014. Two days before Mahalaya. She called me, overjoyed! She got a job! I was euphoric too! But then came the less pleasant news. She’s moving to Some other city. So, after puja, she went away.

We talked every day. As her company was paying her bills, she used to call more, but we talked, I missed her presence. I missed doing all the crazy stuff I did just to make her smile when she was angry with me. Like all other couples, we counted days, when we will meet, again…

In those days I used to hear one song, every day, countless times;

 

“Till the white rose blooms again, you must leave me lonely,

So goodbye my love till then, till the white rose blooms again.

The Summer days are ending in the valley,

And soon the time will come when we must be apart,

But like the rose, that comes back in the spring time,

You will return to me when the spring time comes around…”

 

When she finally returned, I was in a bit of a sticky situation. My best friend’s dad was hospitalized, and there was very little hope of his recovery. I was restless, but still, I felt it was necessary for me to go to the station and receive her (God help me If I neglected an elderly man whom I will never see again). We sat in the cab together. After six months. I held her hand, for a few minutes, and then she did something she never did before, She talked less, and checked her mobile more. I got a very uncanny feeling; something I never experienced before. There were quite a few times in the past years, when I taunted her, asking who’s the guy she’s having affair with; just to watch her smile and punch me. But this time, I knew, I was not joking…

-“Who’s the Boy ?”

-“Are you kidding me ?”

She smiled. I smiled back. And she went back to her mobile.

That was the day, no country song could soothe me, or calm me down. Next day she called, what she said can be interpreted by a song by Gordon Lightfoot;

 

“I never thought I could act this way

And I’ve got to say that I just don’t get it.

I don’t know where we went wrong

But the feelings gone and I just can’t get it back.”

 

That’s what she said, she doesn’t feel for me. She doesn’t belong to my future anymore.

I begged her… I cried, And

I begged her…

 

After a whole lot of crying and begging, she said she needed some time. I still thought I could fix that. Everything’s gonna be ok. We will be back together in no time.

One day after that, my friend’s father died. I went to the crematorium, and that day, it felt like a part of me got cremated too. She went back to her workplace. Months passed. Surprisingly, I did not hear any songs except for Scarborough Fair… and Sound of Silence.

Then the day finally came. She made a decision; This is not working out. All that time she needed, didn’t do any good. She can’t be with me, ever. She doesn’t feel for me, actually, she fell for someone else.

I cried some more… and begged some more… And cried again…

After Six long, happy years… It ended…

 

“The day, the music died”

 

I never had much of an ego, but that day, I killed my self-respect. She said it’s over. For the next two days, I felt like everything and everyone is laughing

at me, and when I tried to sleep, all that darkness in my room used to choke me. I lost the only balance I had in my life.

And then I met him… Eddie Vedder… He told me,

 

“Practiced on our sins

Never gonna let me win, uh huh

Under everything

Just another human being, uh huh 

 

Yeah, I don’t want to hurt

There’s so much in this world To make me bleed”

 

I rediscovered Gordon Lightfoot…

 

“Picking up the pieces of my sweet shattered dreams

I wonder how the old folks are tonight,

Her name was Anne and I’ll be damned

If I recall her face,

She left me not knowing what to do”

 

I don’t know how, but once again the country songs saved my life. It’s what kept me from self-destruction and emotional drainage. That and my ever supporting family. Actually, family is always there, But I had an extra advantage, and that is why this “writing” is called Country Songs and a Broken Heart” not “Breakup and My Family”.

I know, I wrote about six pages of complete gibberish. But I felt like writing, So, what can anyone do about that? I don’t know where to end, But now would be a good time… I think…

 

Peace and Love…

 

Neel

 

P.S. : If someone’s interested in the songs I’ve mentioned in this post, feel free to chech out the YouTube links given below. Thanks !

1. Jamaica Farewell – Harry Belafonte

2. Pather Prante – Ranjan Prasad

3. Blowin’ In The Wind – Bob Dylan

4. Monday Morning – Peter, Paul, and Mary

5. Scarborough Fair (Canticle) – Simon and Garfunkel

6. Annie’s Song – John Denver

7. Cecilia – Simon and Garfunkel

8. For Emily, Wherever I May Find Her – Simon and Garfunkel

9. Over and Over – Nana Mouskouri

10. Seasons of the Heart – John Denver

11. The Boxer – Simon and Garfunkel

12. Danny’s Song – Kenny Loggins

13. White Rose of Athens – Nana Mouskouri

14. If You Could Read My Mind Love – Gordon Lightfoot

15. American Pie – Don Mclean

16. Just Breathe – Pearl Jam

17. Carefree Highway – Gordon Lightfoot