Why… SOOO… Serioussssss ???

It wasn’t hard- madness is like gravity. All it takes is a little push.

The Joker, (The Dark Knight [2008])

SPOILERS !!!                    SPOILERS !!!                    SPOILERS !!!

Now that you’ve moved past the Spoiler Warning, let’s answer the obvious. Why am I writing this ‘Joker’ rant with ‘The Dark Knight’ quotes ?

The answer is simple; over the years, we’ve seen so many Jokers on the Big Screen. What began with Jack Nicholson was taken to a different level by Heath Ledger and then this character sank in the depths of disgust in the hands of Jared Leto.

But, anyway… We get the Joaquin Phoenix starrer origin movie of the iconic DC villain 11 years after the iconic performance of Ledger. Now, Joaquin Phoenix, Robert De Niro feels like a winning combination, but Snyder led DCEU has the worst track record a studio can have. And, the last time DC made a villain origin story by the name of Catwoman; even Halle Berry was unable to save that shit.

But Joker was something entirely different. Comics Fans already know there are more than one Origin Stories of the Joker, be it Alan Moore “A Killing Joke” or Ed Brubaker’s “The Man Who Laughs”; (which is a fitting sequel to Frank Miller’s “Batman : Year One). Joker is perhaps the most iconic comic villain of all time. The Clown Prince of Crime has helmed many names, Jack Napier in Tim Burton’s Batman or the Infamous Red Hood in The Killing Joke.

Here, Joker is Arthur Fleck. And we could understand the basic story of the movie from the trailer itself; a very common man, driven insane and violent by the society. But it’s the ‘how’ we are interested in. And I’ve heard rumors about how this is not a movie connected to the DC Universe; not to comic books… But while watching the movie, I realized that is not the case; I feel this is a movie which could be the prequel to both nolanverse and DCEU, while holding together a lot of comic storylines. And most importantly, I feel this pays the debt that is due to Heath Ledger for making The Joker immortal.

We all remember in the Dark Knight, Joker putting his head out of the window of a car to feel the wind on his face; in midst of the chaos he has caused. Here, when Arthur is arrested, he looks out the window of the police car and laughs. We expect to se him put his head out of the window, but that never happens, when the cop who’s driving the car accuses him of causing all this chaos, he replies;

“I know! Isn’t it Beautiful!”

Heath’s Joker told us Madness is Like Gravity, and Joaquin’s Joker made us realized how strong that gravitational pull is…

I saw Heath staring at me right there. The story borrows its elements from The Killing Joke, but replaces pregnant wife with ailing mother, also the iconic TV Interview scene from “The Dark Knight Returns” by Frank Miller. So, yes, this movie is based on real comic books, but Todd Philips took all his creative liberty to merge great Joker stuff into one movie, making it one of the most iconic comic book movie of all time.

And how can I stop without talking about the man of the hour, Mr. Joaquin Phoenix himself ? I’m no one to judge his acting prowess, but he deserves another Oscar this year. His physique, his mannerism his apparent mood shifts, and that maniacal laugh, it brings the Joker to life. And to be honest this kind of performance is something impossible to incorporate within a full-blown Batman movie. In that category, Heath is still the best “Joker within a Batman Movie”. But Phoenix did, what Leto couldn’t, he gave the Joker fans something they always wanted.

I smiled, when Arthur put his finger in his mouth and stretched his mouth into a bloody grin. And when, sitting in Arkham, he realized, people won’t understand his jokes. I smiled and realized; this is again a comic book reference (Mad Love by Paul Dano).

And last, but not the least. I love comic book movies. I hate Zack Snyder. I love serious films like Scorsese directed one’s but Marvel and DC movies belong to a different genre, it’s like comparing Apples and Oranges. So, I won’t go into that controversy. But, if Mr. Scorsese feels threatened by MCU, then he is not in his right mind. Although he should be. The Wolf of Wall Street succeeded because of DiCaprio. It was the weakest movie he’s ever made.

Can Marvel make a thought-provoking movie such as Joker,

-Yes, maybe… (In the Next 100 Years…)

Can Zack Snyder make ‘Dark’ movies? -Absolutely Not…

He is a Joke, that I didn’t get…

Is it just me, or is it getting crazier out there?

There is no Punchline…

Neel…         

“ফলেন পরিচয়তে…”

বাঙালির চিন্তার বিভিন্ন স্তর আমাকে অবাক করে, মুগ্ধ করে… আবার মাঝে মাঝে মনে হয় এরকম চিন্তাভাবনা লোকে করে কি ভাবে ?

হ্যাঁ, সত্যিই… আসলে চিন্তার স্তরের কাজ সবসময় তর থেকে তমের দিকে যাওয়া, কিন্তু সেটা উচ্চতর বা নিম্নতর, সেটা বোঝা, অনেকক্ষেত্রেই যিনি চিন্তা করছেন, তাঁর পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। আবার কিছু লোক(?) তো চিন্তা-ভাবনাকে নিম্ন থেকে নিম্নতর স্তরে নিয়ে যাওয়াটাকে আর্টের পর্যায় নিয়ে গেছেন, এককথায় যাঁদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্য বলে…

তা এরকম কিছু চিন্তাভাবনার স্তরের উদাহরণ দিই…

স্তর ১ – অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন; বাঙালির আজ অতি গর্বের দিন।

স্তর ২ – কোলকাতার ছেলে, আজ নোবেল জয়ী, এটা কোলকাতার গর্ব।

স্তর ৩ – কোলকাতায় মোট ৬ জন নোবেল লরিয়েট এর বাস ছিল… আপনার শহরে কজন ?

স্তর ৪ – কোলকাতায় মোট ছ’টা নোবেল, একটা অস্কার…

স্তর ৫ – অমর্ত্য সেনের পর অর্থনীতিতে ভারতের দ্বিতীয় নোবেল !!!

স্তর ৬ – অমর্ত্য সেনের মত এনার ও একাধিক বিয়ে…

স্তর ৭ – ওনার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে একটা হাঁটুর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করেছেন…

স্তর ৮ – একাধিক বিয়ে না করলে আসলে নোবেল পাওয়া যায় না বোধহয়…

স্তর ৯ – যারা নোবেল পায়, তারা সবাই-ই দুশ্চরিত্র

হ্যাঁ, জানি এর মধ্যে বেশ কিছু কথা হল, যাকে বলে ‘চাড্ডীকথন’। কিন্তু আমি জানি, অনেকের মনে মনে এই ধারণাটাই তৈরী হয়েছে। কিন্তু এখন ব্যাপার হল, যিনি প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ করে আবার বিয়ে করেছেন, তিনি কি নৈতিকভাবে নোবেল পাওয়ার যোগ্য ? তা, এই ব্যাপারেই ভাবলুম কিছু লিখে ফেলি।

প্রথম কথা হল, আমি আমার সীমিত জ্ঞান থেকে যতটুকু জানি, নোবেল বোধহয় নৈতিকতায় দেওয়া হয় না। বিশেষ করে, পুরস্কারটা আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে, ‘হাজব্যান্ড অফ দ্যা ইয়ার’ নয়। এসব ব্যাপারে পুরস্কার দেওয়া হলে, ডক্টর ব্যানার্জী সেটা পেতেন কিনা, সেটা আলোচনাসাপেক্ষ, কিন্তু ব্যাপার হল, নোবেল পুরস্কার কাকে দেওয়া হবে, ভাগ্য ভাল, সেটা আমাদের মত মিনমিনে মানসিকতার ভেতো বাঙালিরা ঠিক করে না। নাহলেই হয়েছিল।

একটা গল্প বলি এই প্রসঙ্গে, আজ থেকে অনেক বছর আগে, ১৮৭৯ সালে জার্মানিতে এক ব্যক্তির জন্ম হয়। জুরিখে পড়াশোনা করাকালীন এক সহপাঠিনীর সাথে প্রেম, বিবাহবহির্ভূত একটি কন্যা সন্তান হয়। তবে সঠিকভাবে জানা যায় না, মেয়েটির ঠিক কী হয়, কেউ বলেন মেয়েটিকে বাপ-মা দত্তক দিয়ে দেয়, কেউ বলে স্কারলেট ফিভারে মারা যায় শিশুটি। এরপর ১৯০৩ সালে দু’জনের বিবাহ। ১৯১০ এবং ১৯১৪ সালে দু-দুটি পুত্রসন্তানের জন্ম,  ১৯১৪ সালে দু’জনের বার্লিনে গমন এবং সেখানে সংসার পাতা। কিন্তু বার্লিন যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাক্তির স্ত্রী আবিস্কার করেন যে ব্যাক্তিটি তাঁর খুড়তুতো বোনের প্রতি অনুরক্ত। ফলে তিনি স্বামীকে পরিত্যাগ করে জুরিখে ফেরত আসেন, আর ১৯১৯ সালে বিবাহবিচ্ছেদ। সেই বছরেই ব্যক্তিটি নিজের খুড়তুতো বোনকে বিবাহ করে সংসার পাতেন। আর ১৯২১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান। শুধু তাই কেন, পদার্থবিদ্যায় তাঁর অবদান ছাড়া, আধুনিক পদার্থবিদ্যা তাঁকে ছাড়া আজ অচল…

জানেন ব্যক্তিটি কে ? যাঁরা আন্দাজ করতে পারেননি, তাঁদের জন্য বলি, তিনি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন…

এবার বলুন ? কি করবেন ? আঁস্তাকুড়ে ফেলে দেওয়া হবে, জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি ?

এটা একটা উদাহরন দিলাম… আরো ভুড়ি ভুড়ি আছে। লিখতে শুরু করলে রাত কাবার হয়ে গেছে।  তাহলে ? কি হবে এদের নিয়ে ?

আর এখানেই আসে আমার লেখার শিরোনাম, ‘ফলেন পরিচয়তে’। আইনস্টাইন নামটা শুনলে আপনার কি মনে পড়বে ? ব্ল্যাক হোল… ফিজিক্স… গ্র্যাভিটি… নাকি মিলেভা আর এলসা আইনস্টাইনের কথা ? বিশ্বাস করুন বা না করুন… এনারা নিজের যোগ্যতায় নোবেল পেয়েছেন। তাঁর সাথে এনার কটা বিয়ে, কটা ছেলেপুলে, কিচ্ছুর মানে দাঁড়ায় না। তাই বিশ্বাস করুন, আজ থেকে ১০ বছর পর, ১০০ বছর পর, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নামটা শুনলে অর্থনীতিতে নোবেলই মনে পড়বে, মনে পড়বে না তিনি কতবার ছদনাতলায় গিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ শুনলে গীতাঞ্জলিই মনে পড়বে; ‘কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড নোট’ নয়।

আর ১০ বছর পর কিন্তু চাড্ডী মানে জাঙিয়া আর অর্ণব গোস্বামী মানে নেড়ী মনে পড়বে… দেশনেতা নয়…

আর দ্বিতীয় কথা, যদিও এটা অনেকেই অনেকবার বলে ফেলেছেন। এবার অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডাফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। তারমধ্যে এস্থার ডাফলো পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী নোবেল পুরস্কার প্রাপক। এস্থারের এছাড়া অনেক ছোট্ট একটা পরিচয় আছে, তিনি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। মনে রাখবেন। তিনি আগে নোবেল লরিয়েট ইন ইকোনমিক্স, তাঁরপর অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। অনেক পরে…

শান্তির আশায়…

নীল…        

গুমনামী বাবা – এন্ডগেম

সিজিদ্দার ‘গুমনামী’ ছবির স্পয়লার পাবেন এই পোস্ট-এ… আর কিছু বলব না…

সুভাষ চন্দ্র বসু কে নিয়ে আমাদের, মনে বাঙালিদের অনেক অনেক কৌতূহল| আর এই সুভাষ চন্দ্র এবং গুমনামী বাবা এক ব্যক্তি কিনা, এই নিয়ে এবার পুজোয় সিজিদ্দার নিবেদন| কারণ, পুজোর বাজারে সব চলে। আমি বিন্দুমাত্র আশা না নিয়ে (সিজিদ্দার ট্র্যাক রেকর্ডের জন্য) হলে গিয়েছিলুম।

কিন্তু আজ হলে গিয়ে বুঝলাম, সিজিদ্দা প্রচুর খেটে সিনেমাটা তৈরী করেছেন; মাইরি বলছি…  তবে কারীগরি সহায়তায় টনি স্টার্ক এবং ব্রুশ ব্যানারের নাম না দেখে মনে বড় ব্যাথা পেলাম। সিজিদ্দার আনন্দযজ্ঞে এনারা গুমনাম হয়েই রয়ে গেলেন… কারণ এই ছবিতে টাইম ট্রাভেলের ব্যবহার ছবিটিকে অনবদ্য করেছে, এবং আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতেও টাইম ট্রাভেলের ব্যাপক ব্যবহার আমরা দেখতে পাব… কারন,

সিজিদ্দা হলেন পাইওনিয়ার… 

২০০৫ সালে বেরিয়েছিল “নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস – দ্য ফরগটন হিরো” শ্যাম বেনেগল ছিলেন পরিচালক। যখন দেখতে পেলুম সেই সিনেমা আর গুমনামীর প্রথম দৃশ্য (এমনকি অনেক ডায়ালগ পর্যন্ত) হুবহু এক, তখন বুঝতে পারলুম, সিজিদ্দাই অতীতে গিয়ে শ্যামদাদুকে আইডিয়াটা দিয়ে এসেছিলেন।

যাক গে… গল্পের শুরুতে মানে ১৯৯৯ সালে যখন চন্দ্রচুড়রূপী অনির্বাণ দা নেতাজিতে অবসেসড হয়ে যাচ্ছেন, পড়ে পড়ে চোখের কোলে কালী, মুখে নোংরা দাড়ি, তা সেই সময় বিবাহবার্ষিকীতে বৌ তনুশ্রীর সাথে টাইম ট্রাভেল করে ২০১৩-এর পর “অউধ ১৫৯০” তে খেতে যাওয়ার প্ল্যান করেন, কিন্তু তনুশ্রীদি সেখানে পৌছে গেলেও দাদা পৌছোন না, ফলে বৌদি ফের ১৯৯৯-এ ফিরে এসে দাদার সাথে হেব্বি বাওয়াল দেন। দাম্পত্য কলহে টাইম ট্রাভেলের ব্যবহার ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এই প্রথম। 

যাক গে, গল্প চলতে থাকে, বৌদি দাদাকে তালাক দিয়ে দেন। ওদিকে দাদার তখন মনে প্রাণে নেতাজী। তাই আমরা নেতাজীর গল্পও দেখতে থাকি, চলতে থাকে মুখার্জি কমিশনের শুনানি। শুনানির মাঝে (কত সাল জানি না, তবে ১৯৯৯ এর পরে আর ২০০৬-এর আগে) বৌদি দাদার সঙ্গে ভাব করবেন বলে আবার ২০১৪ সালে টাইম ট্রাভেল করে একখানা ওলা / উবের করে আবার অতীতে ফেরত এলেন দাদাকে পিক আপ করতে ঠিক সময়ে যখন দাদা মহাজাতি সদন থেকে বেরোচ্ছেন। আহা ! টাইম ট্রাভেলে কলহ, আবার টাইম ট্রাভেলেই সন্ধি ! সিজিদ্দা দেখালেন বটে… 

গুমনামী – থ্যানোস

আমি এতটা দেখেই মুগ্ধ ! কিন্তু তখনো দেখার বাকি ছিল। ছবির শেষে যখন অনির্বাণদা ঘর ঢুকে কাচের দরজা লাগিয়ে ঘরে আগুন লাগাচ্ছিলেন, বৌদির হেব্বি কান্নাকাটি, হঠাৎ করে হাতে চলে এল মোবাইল ফোন, যেন ডক্টর স্ট্রেঞ্জের হাতে টাইম স্টোন ! দিদি ফোন, কান্নাকাটি সব করলেন, কিন্তু এর মধ্যে ঘরে খুঁজে হাতুড়ি / শিল-নোড়া / শাবল, নিদেনপক্ষে একটা ডিলডোও খুঁজে পেলেন না যেটা দিয়ে কাচের দরজা ভাঙ্গা যায়। লোকজন দৌড়ে এসে ঠিক সময় মত হাতুড়ি কিন্তু পেয়ে গেল ! আহা ! হাতুড়ি তো নয়, যেন ইনফিনিটি গন্টলেট… সব মিলিয়ে জমে ক্ষীর… 

তা মোটের ওপর বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘গুমনামী’ হল সেরকম একটা সিনেমা, যেটা এর আগে হয়নি, ভবিষ্যতে হবেই না, কারণ সিজিদ্দা আস্তে আস্তে যা খেল দেখাচ্ছেন, এর পর আরো উঁচু স্তরে উঠে যাবেন। ‘’ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ড’ ছবিতে অল্টারনেট রিয়ালিটির গল্পে টারানটিনো হিটলার কে মেরে ফেলেছিলেন। সিজিদ্দা বোঝালেন একটা ছবিতে টাইমলাইন আর ডিটেল কতটা গুরুত্বহীন। এবং প্রমাণ করে ছাড়লেন তিনি টারানটিনোর বাবা, আর স্করসেসী ওনার মামা… 

যাকগে, সিজিদ্দা সাধুসঙ্গ করতে হেব্বি ভালো বাসছেন আজকাল। এক বছর ভাওয়াল, আর এক বছর গুমনামী, সামনের বছর না “ইউ আর মাই লাভ চার্জার” বানিয়ে বসেন… হলে আমি সিজিদ্দার ছবি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় হরির লুট দেব… 

জয় থ্যানোস ! দাদার আমি চরম ভক্ত…

মাচা – লোটা সংবাদ

পোস্ট-পূজা ব্লুজ বলুন, বা পূজো পরবর্তী মনখারাপ, সেটা বাঙালি জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আর বলতে বাধা নেই, এখন হয়তো একাদশী থেকে বই খুলে বসতে হয় না, তবু পূজোর পরের একটা মন খারাপ করা পরিবেশ, সেটা কাটাতে বেশ সময়ই লাগে। তাই লেখাটা সপ্তমীতে শুরু করে, সেটা শেষ করতে এই পাক্কা ছ’দিন লেগে গেল।

তবে, সত্যি বলছি, এই ব্যাপারটা নিয়ে যে কোনোদিন লিখতে হবে, ভাবতে পারিনি। যখন আমি ছোট ছিলাম, আমার ঠাকুরমা-এর কল্যাণে বা বাতিকে যাই বলুন, বছরের ১২ মাসের মধ্যে সাড়ে ১১ মাস, আমাদের বাড়িতে কাঠের মিস্ত্রি লেগে থাকত। এবং সেই মিস্ত্রি, যাকে আমি আজীবন ‘মামু’ বলেই ডেকে এসেছি, সেই বিনোদ বিহারী হালদারের ভাষা শুনে আমি চমৎকৃত হতাম। বাংলা, কিন্তু বাংলা নয়, কিন্তু কি অদ্ভূত সুন্দর লাগত, সেই ভাষাটা… “থাকমু”, “করমু”, “খামু” থেকে “কি করতাস মামু ?” এভাবেই প্রথম ‘বঙ্গালী’ কথ্য উপভাষার সাথে আমার পরিচয়।

এর পরের পরিচয়ের জন্য যিনি দায়ী, তিনি হলেন শ্রদ্ধেয় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সিনেমা এবং কমিক, আমাকে ভাষার পর আলাদা ভাবে চেনায় বাঙালদের। ‘ওরা থাকে ওধারে’ দেখে, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান নিয়ে ঝগড়ার সব ঘটনা দেখে আমি হেসে কুটিপাটি। তখন আমার প্রশ্নের তাড়নায় জর্জরিত হয়ে বাবা-মা আমকে বলেছিলেন বাঙাল আর ঘটির গল্প। ব্যাস, আমি শুধু এটুকুই জানতাম, বাঙাল ঘটি মানে নদীর এপার আর ওপার। ব্যাস…

যখন আর একটু বড় হলাম, ঋত্বিক ঘটকের হাত ধরে জানলাম দেশভাগের কথা, উদ্বাস্তু হওয়ার কষ্ট, সব হারানোর যন্ত্রণা। কত নির্যাতন সহ্য করে নিজেদের শেকড় উপড়ে সবাই পশ্চিমবঙ্গে/ভারতে এসেছিল। আমার মনে হয়েছে আমি কত ভাগ্যবান যে আমার পূর্বপুরুষদের দেষভাগের মতো নারকীয় ঘটনার জন্য রাতারাতি সমস্তকিছু ফেলে চলে আসতে হয়নি। এটাই। আমি ঘটি, আমার বাঙাল বন্ধু/বান্ধবীদের লেগ পুলিং আমি আজও করে থাকি, সবকিছু নিয়েই, কিন্তু ব্যাপারটা পুরোটাই খেলার ছলে হয়ে থাকে।

কিন্তু আজ এই লেখার অবতারণার কারণ হল, আমি আশেপাশে যে অসন্তোষ দিন দিন দানা বাঁধতে দেখছি, সেটার জন্যই। সেটা হয়তো নতুন কিছু নয়, কিন্তু আমার চোখে আজকাল পড়ছে অনেক মানুষ, যারা ব্যাপারটাকে অনেক সিরিয়াসলি নেন, মানে অনেকে মনে করেন একে অপরের ছায়া মাড়ানোও পাপ। বিশ্বাস করুন, হেডিং-এর শব্দদুটো মানে ‘মাচা’ এবং ‘লোটা’ এদুটো আমি হালে শিখেছি, তাও ফেসবুকের দৌলতে। আমি আসলে ভেবে কূলকিনারা পাইনা, জানেন। বাঙালী ধর্মের উর্দ্ধে উঠতে দু’বার ভাবে না, শুধু সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে, কালচারের দোহাই দিয়ে; সেই বাঙালী কি করে ঘটি-বাঙালের মধ্যে আমরা ওরার বিভাজন করে, আমি কোনোদিন এর কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাইনি।

দেখে ফেলুন…

আমার সবসময় মনে হয়েছে, বাঙাল-ঘটি নিয়ে এই যে ব্যাপারটা, এটা সবসময় চুলোচুলি, বা খুনসুটির পর্যায়েই আছে, বা থাকবে। কিন্তু দেশটা ভারতবর্ষ আর লোক তিলকে তাল করতে এখানে ওস্তাদ। তাই মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল নিয়ে যে ঝড় চায়ের কাপে ওঠার কথা, সেটা ফেসবুকে খিস্তি-খেউড়ির পর্যায়ে পৌছে যায়।

এখানে যে ব্যাপারটাকে নিয়ে সবথেকে বেশী নোংরামো করা হয়, সেটা হল “তোরা উদ্বাস্তু…” এখান থেকে শুরু হয়ে “তোরা আমাদের জায়গা দখল করে চাকরী খেয়ে বসে আছিস…” অবধি চলে যায়। আমি জানি, গোটা ব্যাপারটাই অযৌক্তিক, তাহলে এবার আমি একটা প্রশ্ন করি,

উদ্বাস্তু কাকে বলে ?

ধরুন, একজন লোক, নাম – চামর সিং, জাতিতে রাজপুত, রাজপূতানার কোনো এক অংশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে (বর্ধমান জেলায়) এসে জমিদারীর পত্তন করলেন, তারপর কালক্রমে রায়বাহাদুর পাওয়ার পর, সিং থেকে সিংহরায় হয়ে গেলেন, এবং বংশপরম্পরায় বাঙালি রাজপূত নামক লুপ্তপ্রায় জাতির ধারক হলেন তার বংশধররা, এবং তাদের মধ্যে একজন আপনার পরিচিত, নীলোৎপল সিংহরায়।

তা এনাকে কি বলবেন ? আমাকে কি বলবেন ? উদ্বাস্তু ? নাকি স্বেচ্ছায় আর অনিচ্ছায়ের যুক্তি দেবেন ?

আর সেই যুক্তি ঠিক হলে তো মশাই, যাঁরা অনিচ্ছায় ভিটে-মাটি ছেড়ে এসেছে, তাঁদের প্রতি তো আপনাদের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত তাই না ?

পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ (হ্যাঁ, বাংলাদেশ), ভুলে যাবেন না, র‍্যাডক্লীফ লাইন টানার আগে অবধি কিন্তু ওটা আমাদের দেশেরই অংশ ছিল। ওরাও কিন্তু বাঙালি… গোটা পৃথিবীর মধ্যে বাঙালিদের ‘ন্যাচারাল হাবিট্যাট’। এবার, দেশভাগের আগে আর পরে কে নদী পেরিয়েছে বা পেরোয়নি, এটা নিয়ে যদি কোঁদল করতে চান, তাহলে আপনার মত মূর্খ ভূ-ভারতে নেই। আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা একেবারেই অন্য। আমি চমৎকৃত হয়, এটা ভেবে যে একটা নদীর এপার আর ওপারের সংস্কৃতি, এক হয়েও কতটা আলাদা। রান্না, ভাষা, সব… আর কি কি, সেটা জানতে হলে মান্না দে-র ‘সেই ঢাকা মেল নেইকো আর’ গানটা একবার শুনে নেবেন।

আসলে হয়তো আমি এখনো সিরিয়াস হতে শিখিনি, বা, আপনারা আজকাল বড্ড বেশী সিরিয়ার হয়ে যাচ্ছেন। যদি মনে হয় একটা রাগ মনে মনে দানা বেঁধে উঠছে, তাহলে ‘ওরা থাকে ওধারে’ সিনেমাটা আবার একবার দেখে নিন। মাথা ঠান্ডা হতে বাধ্য।

শান্তির আশায়…

নীল…

পুনশ্চ – তবু মোহনবাগান জাতীয় ক্লাব… জয় মোহনবাগান !!!          

সেই ঢাকা মেল – মান্না দে

ওরা থাকে ওধারে – ছায়াছবি

প্রতুলের ডায়েরী – শেষ কিস্তি

গতকাল রাতে আমি প্রতুলের ডায়েরী পড়া শেষ করলাম। জানি, এটা কোনো গল্প বা উপন্যাস নয়, যে সেটার একটা উপযুক্ত উপসংহার থাকবে, কিন্তু, কারোর জীবনের ঘটনাও যদি বা হয়, তাতেও একটা সমাপ্তিমূলক অন্ত মানে ইংরেজীতে যাকে ‘ক্লোজার” বলে, সেটা আশা করা তো খুব একটা অমূলক নয় ? কিন্তু ডায়েরীটা যেখানে শেষ হল, সেখানে উপসংহার তো দুরের কথা,  কি যে হল, সেটা ভেবেই কূল-কিনারা করতে পারলাম না।

কেভেন্টার্সের ছাদে বসে আবার ডায়েরী খুললাম। হ্যাঁ, দার্জিলিং-এ এসেছি গত পরশু, তার মধ্যে মিরিক, আর দার্জিলিং-এর আশেপাশের জায়গাগুলো ঘুরে দেখা হয়ে গেছে। কিন্তু এর মধ্যে আর ডায়েরী লেখা হয়নি, আর না লেখার কারণটা আসলে বড়ই অদ্ভূত। যতবারই ডায়েরী খুলে বসেছি, ততবারই আগের পাতাগুলোয় চোখ চলে গেছে… আর সত্যি করে ভালো, বা সুন্দর কিছু লেখার কোনো ইচ্ছেই হয়নি। যতবারই বসেছি মনে মরবিড উদ্ভট চিন্তাভাবনা এসেছে। অনেক রাত অবধি ম্যালে একা একা হেঁটে, রাতে পাহাড়ের রাণীর গায়ের ধাপে ধাপে গজিয়ে ওঠা ছোট ছোট বাড়িগুলোর অসংখ্য আলোর দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে থেকে মুখে একটু হাসি নিয়ে হোটেলে ফেরার পড়ও ডায়েরী খুলেই যেন মনে হয়েছে নিজেকে খুশি করার জন্য এতক্ষণ যে পরিশ্রমটা করলাম, সেটা পুরোটাই মাটি।

হ্যাঁ, মিরিকে গিয়ে ঘুরেছি, বা কাল দার্জিলিং-এও খুব ভালো করে ঘুরেছি, কিন্তু ওই… ঘুরেছি, ভালো লেগেছে… কিন্তু লিখতে গেলেই মনে হচ্ছে, এতে আর লেখার কি আছে ? এরকম পেসিমিস্ট কিন্তু আমি কোনোদিনই ছিলাম না। হয়তো এই ক’দিনের ঘটনাই আমার এরকম মনে হওয়ার কারণ। লোকের খুশি থাকার কারণ আমাদের মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এবং এটা খুবই বস্তাপচা আঁতেল যুক্তি। কিন্তু আশেপাশে এত খুশির, আনন্দের কারণ খুঁজে পাওয়ার পরেও, ডায়েরী খুলে কেন লিখতে পারছি না ? কুঁড়ে হয়ে গেলাম ?

আজ বিকেলের শেষের দিকে গ্যাংটক এসে পৌছেছি। হোটেল থেকে ম্যালের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি শুরু হল। এরকম আগে দেখিনি কখনো… একটা দোকানে আশ্রয় নিতে হল, আর বাইরের শব্দ শুনে কানে তালা ধরে গেল। অবিরাম শিলাবৃষ্টি। দেখতে দেখতে একপ্লেট মোমো খেয়ে ফেললাম। শিল পড়া থামলে, দোকান থেকে বেরিয়ে হেঁটে মলে পৌছালাম। আর…

আর লিখতে চেষ্টা করতেই, মলে ঘোরার আনন্দটা পুরো মাটি হয়ে গেল। আবার মাথায় সেইসব চিন্তা; কি লিখছি, কেন লিখছি… ধুর…

আজ রুমটেক মনেস্টারি… এশিয়ার সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মঠ… দেখে ‘খুব সুন্দর’ লাগল, এই কথাটা জোর করে লিখতে হল… যন্ত্রচালিতের মত… যেমন পাভলভের কুকুর ঘন্টার শব্দে খাবারের খোঁজ করে, ঠিক সেরকম ভাবেই, আমি জানি ভালো লেগেছিল আমার রুমটেক। কিন্তু সেটা লিখতে গেলে, সেই অবাক হওয়ার, ভালো লাগার, বিষ্ময়ের মুহূর্তগুলো যেন আর অনুভব করতে পারছি না। এ এক অদ্ভূত ব্যাপার।

আজ টি এস্টেট দেখার সময় ঠিক করলাম, এই ডায়েরীটাই যত নষ্টের গোঁড়া। এরকম কথা লিখে লিখে আজ আর ভালো কিছু লিখতে মন চাইছে না। তাই চুলোয় যাক। হ্যাঁ, চুলোতেই যাক। আজই এই ডায়েরী আমি পুড়িয়ে ফেলব। সব গোল্লায় যাক। এই আমার ফাইনাল ডিসিশন। এই ডায়েরীটা পুড়িয়ে ছাই করে… অন্তত এই সিকিমের পাহাড়ের খাদে বিসর্জ্জন না দিয়ে আমি বাড়ি ফিরছি না… নেভার…

ডায়েরীর পড়ের পাতাগুলো ফাঁকা… এখন কথা হল, ডায়েরীটা অক্ষত। কোন পোড়ার চিহ্ন নেই কোথাও। তাহলে কি ডায়েরীটা পোড়ায় নি প্রতুল ? কিন্তু, না পুড়িয়ে যদি পাহাড়ের খাদে বিসর্জ্জন দিয়েও থাকে, তাহলে কলেজ স্ট্রীটের ফুটে, অক্ষত অবস্থায় ডায়েরীটা এল কোথা থেকে ? আর যদি ডায়েরী এখানেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে প্রতুলের কি হল ? নাকি সে এই ডায়েরীটা কাগজওয়ালা কে বেচে দিয়ে নতুন কোনো ডায়েরীতে লিখছে ? এ প্রশ্নের উত্তর, এই জন্মে পাবো বলে তো মনে হচ্ছে না। হয়তো প্রতুল তার লেখার অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠেছিল, হয়তো। কিন্তু সেটা জানার সাধ্য আমার নেই। তাই, প্রতুলকে জানা, আমার আর ফুরালো না…

তবে যেখানেই থাকুক, আশাকরি মানসিক এবং শারিরীক ভাবে যেন সুস্থা থাকে… ব্যাস… এটুকুই…      

শান্তির আশায়…

নীল  

পুনশ্চ : প্রতুলের ডায়েরীর সমাপ্তি এখানেই। আপাতত পূজো এসে পড়েছে, আজ মহালয়া… সবাইকে জানাই শারদ শুভেচ্ছা। পরের সপ্তাহ থেকে নিজের ছন্দে ফিরবে লিবারিশ। প্রতুলের ডায়েরী কেমন লাগল, অবশ্যই জানান কমেন্টে, বাকি পর্বগুলোর লিংক দেওয়া রইল।

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

চতুর্থ পর্ব

আর, আমার লেখা একটি গল্প ‘ভূতের রাজা দিল বর’ প্রকাশ পেয়েছে ‘ব্ল্যাকবোর্ড – ই ম্যাগাজিনে; কেউ ইচ্ছুক হলে, ১০ টাকা খরচ করে, কিনে পড়ে দেখতে পারেন, কথা দিচ্ছি, ঠকবেন না…

প্রতুলের ডায়েরী : চতুর্থ কিস্তি

আস্তে আস্তে গ্রীপ ফিরে পাচ্ছি… কিন্তু সেটা কি ভাল ? ক’দিন আগে যে ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও মনোভাবটা ছিল, সেটা এখন অনেকটাই প্রশমিত। সেটা কি ভালো ? ডায়েরীতে কলম পিশে কি বদলাতে পারব আমি ?  এভাবে দু’দিন অন্তর অন্তর মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাটা কি স্বাভাবিক ? নাকি ব্যাপারটা মানসিকতার না… ব্যাপারটা প্রায়রিটির…

যখন ঘটনাগুলো ঘটল, যখন দেখলাম স্বপ্নগুলো, তখন সবসময় ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবছিলাম, তাই ওরকম মনে হয়েছেল; কিন্তু এখন সেটা একটু প্রশমিত হয়ে যাওয়ার ফলে অতটা প্রভাবিত করছে না ব্যাপারগুলো… মানে একটা ভূতের সিনেমা দেখলে বা গল্প পড়লে, লোকে এক-দু রাত ঘুমাতে পারে না। সারাজীবন তো নয়।  তাই এই ধরণের পরিবর্তন সত্যিই স্বাভাবিক। কিন্তু মাঝে মাঝেই যখন মনে হয়, আমার বাড়ির লোকগুলো রাস্তায় বেরোলে সুস্থ, অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরবে তো ?

সেদিন এই নিয়ে অপর্ণার সাথে বেশ কথা কাটাকাটি হয়ে গেল… আমি বার বার ফোন করে ওকে জিজ্ঞেস করি, বাড়ি ফিরলো কিনা, কলেজ পৌছোলো কিনা… এতবার এতকিছু জিজ্ঞাসা করায় ও বেশ বিরক্ত। আমি বোঝাতে পারছি না, ১০-১৫ মিনিট সময় এদিক ওদিক হলেই আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে…

এরপরে, খুব বিচ্ছিরি ভাবে, বেশ কয়েকটা পাতা ছেঁড়া… এর থেকে বিরক্তিকর কিছু হতে পারে না… গল্প হোক বা ডায়েরী, মাঝখানে এরকম ব্যাপার বরদাস্ত করা যায় না। যেখান থেকে আবার লেখা পাওয়া যাচ্ছে, সেখান থেকে লেখাটার সাথে, আগের ঘটনা/লেখার কোনো সম্পর্ক নেই।

কি মনে হল, স্কুলের সমস্ত ছবিগুলো ফেসবুকের পোস্ট করে দিলাম। প্রচুর লোকজন নস্টালজিয়ার ছোঁয়ায় এসে হাজির হল; আর অনেকগুলো লাইকও পড়ে গেল। সেই সুত্রেই সৌগতর সাথে কথা হচ্ছিল। ও বলল

-“আস্তে আস্তে সবাই একতারা বা দোতারা হয়ে যাবে…”

হয়তো সত্যি, কিন্তু একতারা বা দোতারা হয়ে আমি বাঁচতে পারব না। সবাই মিলে, সবার সাথে মিলেই আমি বাঁচতে ভালোবাসি। হয়তো সেটা প্র্যাকটিক্যাল নয়, কিন্তু একা একা, আমি পারব না… একটু বেড়িয়ে এলে মন্দ হত না… একটু পাহাড়, একটু জঙ্গল… মনটা বড্ড খারাপ হয়ে আছে ক’দিন ধরে…    

এরকম একটা বাক্যের জন্য আমি যেন কতকাল ধরে অপেক্ষা করছিলাম। হ্যাঁ বাবা, যা… একটু ঘুরে আয়… মাথাটা ঠান্ডা কর। আর নিজের মনটা যে ভালো নেই, এটা স্বীকার করার দরকারটাও ছিল এবং সেটার নিজেই রেমেডি করার চেষ্টা, সেটাও।  আসলে সমাজের চিত্র নিয়ে ভেবে দীর্ঘস্বাস ফেলা আর মাথা দোলানো আমাদের অনেকের কাছেই বিলাসিতা; কেউ সেটা আমার মত খাটের ওপরে ল্যাপটপ কোলের নিয়ে করে থাকেন, আর কেউ কর্পোরেট পার্টিতে স্কচের গ্লাস হাতে। কিন্তু সমাজের অবস্থা নিয়ে ঘুমের সমস্যা, দিনের পর দিন নিজের জীবন নিজেই অতিষ্ট করে তোলা, এটা ক’জন করে থাকে। আসলে বয়স আর অভিজ্ঞতার ঘষা খেয়ে আমাদের গায়ে যে পালিশের আস্তরন পড়ে, সেটা আদতে “অবজ্ঞা”।

ভুলতে শেখা, এড়িয়ে যেতে শেখা, মুখ ফিরিয়ে নিতে শেখা… আমরা মনে করি এগুলো বড় হওয়ার অঙ্গ; আশ্চর্য্যের কিছু না… কিন্তু এরকম প্রতুলরা সেইসব বোকা লোকেদের মধ্যেই পড়ে, যারা হিতোপদেশের গল্পগুলোকে সিরিয়াসলি নিয়ে ডায়েরীর পাতায় মাথা খুঁড়ে মরে।

বোকা… বড্ড বোকা…

শান্তির আশায়…

নীল   

প্রতুলের ডায়েরী : তৃতীয় কিস্তি

   এরকম স্বপ্ন দেখার কোনো মূলদ ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পেলাম না… মানুষের স্বপ্নের প্রতি তার নিজের কোনো নিয়ন্ত্রন থাকে না, কিন্তু অবচেতনের ভাবনা চিন্তাই অনেক সময় স্বপ্নের রূপ নিয়ে চোখের সামনে ঘোরাফেরা করতে চায়। ওই স্বপ্নটা দেখার পর কতদিন রাতে যে ঠিক করে ঘুমোতে পারিনি, সেটা গুনে দেখিনি, কিন্তু ভয়ের সিনেমা দেখেও কোনোদিন এত ঘুমের সমস্যা হয়নি…

আমার স্বপ্ন কি সত্যি হতে চলেছে ? আজ দু’টো ঘটনা ঘটল, যেটার সাথে আমার স্বপ্নের দুটো ঘটনার মিল রয়েছে। আজ ক্লাসে ঢুকতে দেরী হয়ে গেছিল। আমাদের ক্লাসটা অত্যন্ত ছোট, ১৫-২০ জনের বেশি লোক ধরে না। ম্যাডামের অনুমতি নিয়ে ক্লাসে ঢুকে আমি লাস্ট বেঞ্চ-এ বসে পড়লাম। রোল কল-এর সময় ফার্স্ট বেঞ্চ-এ বসা সমীর হঠাৎ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

-“আরে ! প্রতুল কখন এলি ? দেখতে পেলাম না তো ?”

কথাটা শুনে আমি প্রায় আঁতকে উঠলাম। আমাকে দেখতে পেল না ? সৌগত আর প্রীতীশ একটা করে চেয়ার সরে গেল,  আমাকে জায়গা করে দিতে; তবু আমাকে দেখতে পেল না ?

দ্বিতীয় ঘটনা ঘটল বাড়ি ফেরার সময়। মেট্রোতে ফিরছি, লোকের ওঠানামার ধাক্কাধাক্কিতে এমন একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালাম, আমি মাঝখানে, আর আমার তিনদিকে তিনজন মহিলা দাঁড়িয়ে। যেমন আমার স্বপ্নে তিনটে খাটিয়ায় পড়ে ছিল তিনটি ধর্ষিতা মেয়ে… এক মুহুর্তের জন্য চোখে অন্ধকার দেখলাম যেন। ভয়ে ‘পেট্রিফায়েড’ হয়ে যাওয়া যাকে বলে, ঠিক সেটাই হয়ে গেছিলাম।  

এসব কি হচ্ছে ? গতবছর ভারতে ধর্ষীতার সংখ্যা প্রায় ২৪,০০০। বাকি পরিসংখ্যান পড়িনি। ভাবছি যদি এই নিয়ে একটা লেখা লেখা যায়। মানে ধর্ষণ, কন্যাভ্রুন হত্যা, পণের জন্য নিপীড়ন, ইত্যাদি ইত্যাদি… ভারতে নারীর বর্তমান অবস্থা গোছের কিছু একটা… ভয় করছে… খুব ভয় করছে; আমার মা, বোন… প্রেমিকা; পারব তো এদের রক্ষা করতে ? আমার আশঙ্কার কথা অপর্ণার কাছে বললে, ও আমায় Distract করতে চাইল; বলল “ওসব নিয়ে ভাবলে মন খারাপ করবে…” করুক, করাই দরকার…

এভাবে রোজ রাস্তাঘাটে যা যা দেখছি, তাতে আমার পাগল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আজ মেট্রোতে তিনটে মেয়েকে দেখলাম। অবিকল আমার স্বপ্নের তিন ধর্ষিতার মতন মুখ। আমি জানি না কি হচ্ছে এসব… পাগলই হয়ে যাব বোধহয়। আবার একটা ‘দেজা ভ্যু’ ?

মাঝে মাঝে আমার মনে হচ্ছে, আত্মহত্যাই একমাত্র উপায়। এসব কথা অবশ্য অপর্ণাকে বলিনি। ওর মনে হচ্ছে আমি ওভাররিঅ্যাক্ট করছি। তা হয়তো করছি, কিন্তু চোখ নাক বুজে “ধনধ্যান্য পুষ্প ভরা…” গাওয়ার বান্দা আমি নই। এই পৃথিবীর পরিবর্তন আমার সহ্য হচ্ছে না। অনেক ভেবেও আমি কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না… কোনোভাবে এর প্রতিকারের উপায় কি নেই ? দিন দিন যেন আমার চারপাশের পৃথিবীটা ছোট হয়ে আসছে।

আগে লিখেছিলাম যে এর প্রতিকারের কোনো উপায় নেই। কোনো সলিউশান নেই। কিন্তু আজ পেয়েছি। সবাইকে শেষ করে দাও। প্রত্যেকটা মানুষ, প্রতিটা পুরুষকে… সবাই আত্মহত্যা কর… মুক্তি পাবে… আমি আর পারছি না…   

এতদুর পড়ার পর, আমি প্রায় পাঁচ-দশ মিনিট রোবটের মত, পাথরের মূর্তির মত শুয়ে রইলাম ডায়েরীটাকে বুকের ওপর নিয়ে। খবরের কাগজে ধর্ষণ, কন্যাভ্রুন হত্যা, এসবের খবর সবার ভ্রু কুঁচকে দেয় ঠিকই, কিন্তু এভাবে কতজনকে প্রভাবিত করে? এটা ২০১৪ সালের ডায়েরী। প্রতুল আজও বেঁচে আছে তো ? নাকি সে তার প্রতিকারের উপায় অনুযায়ী আত্মহননের পথই বেছে নিয়েছে ? অপর্ণা বলে যে মেয়েটির কথা লিখেছে, সে যদি ওর প্রেমিকা হয়, সে বা ওর বাড়ির লোক কি ওর মানসিক স্থিতির কথা জানত ? এবার আমারও ভয় হচ্ছে, পাতা ওল্টাতে…

শান্তির আশায়…

নীল…

Directorate of Comedy, Government of India

Generic Politician to Kunal Kamra : “Concentrate on your comedy, son… Who’s stopping you ? Why are you interfering in politics ? Leave the politics to us.”

Kunal Kamra : “That’s what I did, Sir… but then you’re the one who started doing comedy…”

I’ve said it many times; the affairs of our current government has made me angry, made me afraid… with the politics of hate and their mindless work and agendas, it made me cringe, even.

But, more times than often, It felt like comedic genius.

In my college last year, in a programme for which I did stand-up comedy, I said that our current prime minister paved the way for all upcoming comedians, because his stand up special named “Acche Din”, is running for 5+ years.

In Prime Minister Modi’s first term, we saw comedic geniuses like Subramaniyam Swamy, Yogi Adityanath and more, and of course, tha “Supreme Leader” himself. But after getting elected for the second term, In a matter of month, he and his cabinet minsters have really outdone themselves.

Last year, I said how the “Statue of Unity” is a colossal waste of money, and bhakts/chaddis argued with me about tourist spot, foreign currencies and jobs. Now, there is a limit on IQ for becoming a bhakt/chaddi. And we can’t argue with stupid people. They are best at one thing, and that is ganging up on people (literally or digitally), to troll, beat or lynch. Now the thing is, news reports suggest that the “Statue of unity has failed to attract as many tourists as anticipated; and to attract more tourists, another statue of a Tyrannosaurus Rex is being made spending another 2 Crore Rupees.

Wait, What?

You’ve spent 3000 crores of Tax payers money to build a “National Monument”, the Highest statue in the world, and when tourists are not attracted to that, you think another dinosaur statue will get the job done. Sure, a Dinosaur does symbolize the policies and mentalities of BJP leaders and ministers; but with this strategy, in another term, we will have a garden of statues and no tourist.

Statue of India Economy

And, last week, that half-completed statue went down in storm.

Even dinosaurs are refusing to Stand for the Modi Government.

Now, let’s talk about Nirmala Tai. Our Minister of Finance Mrs. Nirmala Sitharaman…

Not kidding, go to google and type her name, and the first suggestion that google will provide is “nirmala sitharaman education”. Because people are curious. It is a job of Government and Political Parties to shift the blames to opposition, and others, but on her last press conference she went on and blamed the millennials for reduced number of sold cars…

Wait, What ?

When millennials are chugging on anti-depressants because of the economic crisis you’ve brought and total number of jobs reduced drastically. And you blame then for crisis in automobile industry.

“Dil Cheez Kya Hain, Aap Meri, Ga**d Lijiye…”

But still, Millennials are OK; I mean for ages the youth have taken bashing from everybody. We are used to smiling, making jokes and moving past that.

But, Mr. Piyush Goyel went on and referenced Einstein in his futile attempt of defending Government policies, when facts suggests that we, the Largest Democracy in the world has lesser GDP than Pakistan and Bangladesh. He said number crunching is not everything, and whatever the facts might suggest; Indian Democracy was not at risk.

It was funny in it’s own accord, but then came the punchline; He claimed that “Mathematics never helped Einstein Discover Gravity”

Wait, What ?

First of all, the works by are sooo path breaking that a child might mistake and say everything is discovered by Einstein, just like we credit each and every motivational quote to Dr. A P J Abdul Kalaam.

No, it’s obvious Einstein did not discover gravity, but all the work he did, (Photo-electric effect, Theories of Relativity) can only be expressed by mathematics. Because Mathematics is, and always will be the language of theoretical physics.

So, the comedy continues. And even in this time of crisis, I can’t help but laugh at these incidents. And Like Varun Grover once said,

“Satire is the hardest thing to do in Today’s world. You write something today, and find out next day that has actually happened…”

So, the cabinet ministers are giving a healthy competition to the political satirists and comedians. We, Indians are great at doing someone else’s work while living my own unfinished. The only problem is elected officials spend their time doing stupid things, promoting stupid things and justifying stupid things is what weighing our country down.

Alas !

Peace (?)

Neel…

প্রতুলের ডায়েরী : দ্বিতীয় কিস্তি

এরকম Disturbing আর Lucid স্বপ্ন আর জীবনে দেখেছি বলে মনে হয় না… রবিবার দুপুরে শুয়ে বই পড়তে পড়তে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না, তখনই দেখলাম। সব কিছু পরিস্কার মনে আছে। ছোট, বড় সব ঘটনা… এক দুপুরে জীবনটা পালটে গেল যেন… দেখলাম, আমি মেট্রো করে যাচ্ছি, কিন্তু মেট্রোটা যাচ্ছে মাঠের মধ্যে দিয়ে, আর চারদিক খোলা… যেন হগওয়ার্টস এক্সপ্রেস… আর মাঠের চারপাশে উড়ে বেড়াচ্ছে বড় বড় খুব সুন্দর দেখতে পাখি… হঠাৎ, আমার এক সহযাত্রী একটা পাখি ধরে সেটার গলাটা মুচড়ে ছিঁড়ে ফেলল, কিন্তু দেখলাম, একফোঁটাও রক্ত পড়ল না…  লোকটি হাসি মুখে ছেঁড়া মুন্ডুটা হাতে ধরে রইল ট্রোফির মতন। আমি পাখিগুলোকে ভালো করে দেখব বলে নেমে পড়লাম ট্রেন থেকে। আর আমি নামার পড়ই ট্রেনটা প্রচন্ড জোরে ছুটতে আরম্ভ করল। আমি দৌড়েও আর ট্রেনটা ধরতে পারলাম না। তারপর কিভাবে আর কখন যে কলেজে এসে পৌছেছি, সেটা জানি না।

কলেজে পৌছে দেখলাম, আজ বোধহয় কলেজ ভিসিট করতে কিছু লোক এসেছে। একটা লোক, আর তার সাথে কিছু চ্যালা-চামুন্ডা। লোকটাকে দেখে বিজনেসম্যান বলে মনে হল। গোটা ডিপার্টমেন্ট ঘুরে লোকগুলো এইচ ও ডি-এর ঘরে ঢুকে গেল। কেন জানি না, আমিও পেছন পেছন ঢুকতে গেলাম, কিন্তু দরজার গোড়ায় দাঁড়ানো সিকিওরিটি গার্ডটা আমাকে একটা হাত দেখিয়ে আটকে দিল। লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে আমিও আর কোন কথা বলতে পারলাম না… আমি কলেজ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম, সিকিওরিটির চেয়ারে বসে, সিকিওরিটির টেবলে মাথা গুঁজে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে একটা মেয়ে কেঁদে চলেছে। আমি মেয়েটিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম, যে তার কি হয়েছে ? মেয়েটি উত্তর দিল-

-“হাত দিয়েছে…” সে কথাটা বলার সাথে সাথে ইশারায় নিজের বুকের কাছটা দেখিয়ে দিল। আর কথাটা শুনে আমার যেন মাথায় রক্ত চড়ে গেল…

-“কে ? কে দিল ? কোথায় গেল সে ?”

-“জানি না… পেছন থেকে…” এইটুকু বলে আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল মেয়েটি;

-“তুমি কেঁদ না, আমি দেখছি, তুমি এখানেই থাকো…”

আমি ছুটে বিল্ডিং থেকে বেড়িয়ে গেলাম, অ্যাডমিন্সট্রেটিং ব্লক-এর উদ্দেশ্যে ছুটতে শুরু করলাম। অদ্ভূত ব্যাপার হল, প্রাণপণে ছুটেও আমি সেই বিল্ডিং-এ পৌছোতে পারলাম না। আমার চারপাশে কিন্তু লোকে লোকারণ্য, সবাই ছুটছে, খেলছে, হাসছে, চিৎকার করছে, কিন্তু কেউ যান আমাকে দেখতে পারছে না… পেছন ফিরে তাকাতে দেখলাম, আমি আমার কলেজ বিল্ডিং-এর দোড়গোড়াতেই দাঁড়িয়ে আছি। সেটা দিয়ে আবার ভেতরে ঢুকতেই,  দেখতে পেলাম, মেয়েটি সহ টেবিলটি উধাও হয়েছে, আর তার জায়গায় পাতা আছে তিনটে খাটিয়া। সেই খাটিয়ায় শুয়ে তিনটি মেয়ে, তাদের জামাকাপড়ের আর মুখের অবস্থা দেখলে বুজতে অসুবিধা হয়না কি হয়েছে তাদের। একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আমি খুব ক্ষীণ কন্ঠে প্রশ্ন করলাম,

-“কে ?”

তার উত্তরে, মেয়েটা যে দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল, সেটা আমি কোনোদিন ভুলব না… অত অবজ্ঞা, ঘৃণা আমি কক্ষণো কারোর চোখে দেখিনি। জ্বলন্ত সেই দৃষ্টি যেন আমাকে বলতে চাইছিল, তুমি… তুমি করেছ আমাকে ধর্ষণ… তুমিও এই পুরুষ জাতির প্রতিনিধি…

আমি দু’পা ছিটকে সরে এলাম… কেন, কিসের ভয়ে জানি না… দু’পা পিছিয়ে, পিছন ঘুরে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে দোতলায় উঠে গেলাম। দোতলায় উঠে যেটা দেখতে পেলাম, সেটা যেন স্ট্যানলী ক্যুব্রিকের ‘আইজ ওয়াইড শাট’ ছবির একটা দৃশ্য। ঘরে একধিক মেয়ের গনধর্ষণ চলছে একের পর এক মেয়ের। আমি চিৎকার করে উঠলাম… এ আমি কিছুতেই হতে দেব না…

Eyes Wide Shut – Stanley Kubrick

চারপাশের সব ধর্ষক তার জবাবে আমার দিকে তেড়ে এল… কেউ লাঠি, তো কেউ তলোয়ার নিয়ে। সবাই আমাকে ঘিরে ধরল। আমি চিৎকার করে চলেছি… একটা লাঠির বাড়ি মাথায় পড়ল। আমার স্বপ্নেও আমি হিন্দী ছবির নায়ক হয়ে উঠতে পারি না… তাই সবাই মিলে যখন আমায় বেদম প্রহার শুরু করল, তখন আমি ঘুম ভেঙ্গে চিৎকার করে উঠে বসলাম। দম বন্ধ হয়ে গেছিল আমার প্রায়…

এত অবধি পড়ার পর মনে হয়েছিল, এত বানিয়ে বানিয়ে খেটেখুটে কাউকে ডায়েরী লিখতে দেখিনি। আপনাদেরও তাই মনে হচ্ছে, তাই না ? সব বানানো ? কিন্তু, তারপর, আমার চোখে পড়ল হাতের লেখাটা। প্রতুলের হাতের লেখাটা মোটের ওপর সুশ্রী বলা চলে, কিন্তু এই স্বপ্নের জায়গাটুকুতে, সমস্ত হাতের লেখাটা কাঁপা কাঁপা, এলোমেলো…

শুধু ভাবুন, কারোর মনের মধ্যে কি চললে, সেখানে এরকম একটা স্বপ্নের জন্ম হতে পারে ? ডায়েরিটা ২০১৪ সালের (আগে বলা হয়নি), হঠাৎ মনে পড়ল, সেই বছরই তো দিল্লী, পার্কস্ট্রীট, কামদুনী… মিডিয়ার কভারেজ বেশী দেখার ফলাফল ? জানি না… হতে পারে প্রতুলকে আমি চিনি না, কিন্তু এরকম চিন্তা ক’জন করে ? জানি না… মনটা কেমন একটা হয়ে গেল, তাই ডায়েরীটা বন্ধ করে রাখলাম… আজ রাতে ঘুম হবে কি ?

শান্তির আশায়…

নীল…

টিচার্স ডে…

না মশাই… আমি সেইসব লোকজনদের মধ্যে পড়ি না, যারা টিচার্স ডে-এর দিন স্ট্যাটাস দেয় “এক্স কে ধন্যবাদ, ও না থাকলে ধোঁকা খাওয়া শিখতাম না”… বা “বন্ধুদের ধন্যবাদ, ওদের জন্যই আজ নিজেই জয়েন্ট রোল করতে পারি”… না… আমি শিক্ষক দিবসটাকে আমি অত্যন্ত সিরিয়াসলি নিয়ে থাকি; কারণ ‘শিক্ষক দিবস’-এর মধ্যে শিক্ষক কথাটার গুরুত্ব বেশি… না, অপরিসীম। আসলে “দিবস” ব্যাপারটা একটা কারণে ঘেঁটে গেছে কয়েক বছর ধরে। সেটাও বলব; কিন্তু তার আগে একটু সেইসব শিক্ষকদের কথা একটু না বললেই নয়, যাঁদের প্রভাব আমার জীবনে পড়েছে, কখনো বেশী, কখনো কম…

শিক্ষকদের কথা বলতে হলে সবার আগেই যাঁর কথা বলতে হয়, তিনি আমার বাবা, বিজলী প্রসাদ সিংহরায়। আজ যেটুকু ইংরেজী শিখেছি, তার পেছনে এই লোকটিরই অবদান সবথেকে বেশী। আবার অঙ্কটা অনেক কষ্ট করেও আমাকে শেখাতে পারেননি; কারণ তাঁর অন্যমনস্ক ছেলের জন্য তাঁকে ৫-১০ মিনিট অন্তর অন্তর ধৈর্য্য এবং মেজাজ হারাতে হত; কিন্তু সে কথা না হয় থাক। গোটা জীবনটাকে ছকে বাঁধার চেষ্টা করে নিয়মানুবর্তিতারও শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, আর সফলও হয়েছিলেন, কিন্তু ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির ৩ বছরের অনার্সের জন্য, আমার নিয়মানুবর্তিতার নটেগাছটিকেও অচিরে মুড়োতে হয়েছিল।  আজও তাঁর আক্ষেপ, এবং সে কথা প্রায়শই বলে থাকেন, “তোমাকে ১৬ বছরে যা শেখালাম, ৩ বছরে সব গোল্লায় পাঠিয়ে দিলে”। তবে বাবার কাছে বেশিরভাগ ছেলে-মেয়েই হল সব থেকে বাজে ছাত্র/ছাত্রী…

বাবা – মা

সেদিক থেকে বলতে গেলে, এই ব্লগের ৫০% অবদান বাবার, আর বাকি ৫০% মায়ের। কারণ আমার বাংলার শিক্ষিকা ছিলেন আমার মা। তিনি ভাষা ছাড়া আর কতটা কি শেখাতে পেরেছেন জানি না, তবে আমার শিক্ষার ব্যাপারে একটা জিনিস সবক্ষেত্রেই অপরিহার্য ছিল, সেটা হল ধোলাই। জেবনে এত্ত ধোলাই বোধহয় আর কোনো ব্যাপারে খাইনি। তবে এই ধোলাই দেওয়ার ব্যাপারে যিনি সবার আগে এগিয়ে আছেন, তিনি আমার দিদি শ্রীযুক্তা সেঁজুতি সিংহরায়। তবে আমাকে পড়তে বসালে যেসব ঘটনা ঘটত, তাতে আমার মাঝে মাঝে মনে হত, নামটা সেঁজুতি না হয়ে হুজ্জুতি বা শুধু ‘জুতি’ হলে অনেক সময়োপযোগী হত। মানে কিসের কিসের ঘা খাইনি ! লাঠি, ঝাঁটা, জুতো, পিঠ চুলকানো কাঠি, চিরুনি, স্কেল…

হুজ্জুতি…

তবে, বলাই বাহুল্য, প্রহার নামক এই ধনঞ্জয়ের আবির্ভাব আমার জীবনে না ঘটলে আমি উচ্চ-মাধ্যমিকে কেমিস্ট্রিতে ৮১ পাওয়া তো দুরস্ত, পাসও করতে পারতাম না…

কিন্তু এই দিদি আমার গরমের ছুটির দিনগুলোকে বিষময় করে তুলেছিল, ক্লাস এইট থেকে ক্লাস নাইন-টেন-এর বই খুলে প্রতিদিন একটা করে চ্যাপ্টার… ভাবলে আজও গায়ে শিহরন জাগে, চোখে জল আসে। তবে, এই অত্যাচারের সমুচিত প্রতিফল আমার দিদি পেয়েছেন, “নরানাং মাতুলক্রম”-এই নিয়ম মেনে আজ ভগবানই দিদির গর্ভে আর একটি হনুমান পাঠিয়েছেন, আর সে আমার থেকে এককাঠি ওপর বই নিচে না। আমার ভাগনে বাবাজীবনের আজ বয়স ছ’বছর। তাই হয়তো একটু হালকার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তবে তার কপালে যে কত কালো দিন অপেক্ষা করছে, তাহা স্মরণ করিলে শয্যাকন্টকি হয়…

এ তো গেল ঘরের কথা; এবার একটু বাইরে বেরোতেই হচ্ছে। স্কুলে আসার আগে আর এক জায়গার কথা বলা আবশ্যক, সেটা হল গানের ক্লাস। আমার “মাষ্টারমশাই” ৺বেচু মুখোপাধ্যায়কে বড্ড কম সময় পেয়েছিলাম। আমার ফাঁকিবাজির জন্য নিত্য গালাগালি খেতাম, এবং “কাতলা মাছের মত মোটা মাথা”, “ছাগলের মত বড় বড় কান” ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত হয়েও, কোনোদিন গায়ে লাগেনি; আসলে ছোট থেকেই গন্ডারের চামড়া ছিল তো…

মাষ্টারমশাই…

মাষ্টারমশাই চলে গেলেন, তখন ক্লাস নাইন-এ পড়ি। গান শেখার ইতি আমার সেখানেই। গুরু খুঁজলে হয়তো পেতাম। কিন্তু সেই আন্তরিকতাটা কোথাও পেতাম না, এটা জেনেই আর… যাক গে…

স্কুলে পড়াকালীন, দেখা হল রাণা স্যারের সঙ্গে। প্রথমে দু-একবার দেখেছিলাম, আর ভাবতাম, কবে ইনি আমাদের ক্লাস নেবেন। যেদিন থেকে নিতে শুরু করলেন, সেদিন থেকে ফিজিক্স জিনিসটার প্রতি যে মোহ-মায়া তৈরী হল, সেটা অনার্সের জঘন্য রেজাল্ট করার পড়েও যায়নি।

রানা স্যার

একটা চ্যাপ্টার শুরু করার আগে স্যার একটা করে গল্প বলতেন। থার্মোডাইনামিক্স পড়ানোর আগে কাউন্ট রামফোর্ড-এর গল্প, তারপর ওয়েভ-পার্টিক্যাল ডুয়ালিটির আগে ডি-ব্রুই (ডি ব্রগলি নয়)-এর গল্প। ফিজিক্স-এর প্রতি ভালোবাসা, প্রেম, যা যা বলা যায়, সেটার পেছনে রাণা স্যারের অবদান প্রচুর। আমি ফলো থ্রু করতে পারলাম না, সেটা আমার দোষ।

সরস্বতী পুজোর সময় ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে সব খেলাধুলার ক্ষেত্রেই স্যার এগিয়ে থাকতেন।

দূর্গা স্যার

উপপাদ্য নামক ভয়াবহ জিনিসটা একটু হলেও সোজা করে দিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ স্যার। আর বাংলা ভাষাটার প্রতি আমার অনেক কালের যে ভালোবাসা, সেটা একটা অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন আমাদের দূর্গা স্যার। তাই এনাদের কথা না বললে, ঘোরতর অন্যায় করা হবে।

সিদ্ধার্থ স্যার…

টিচার্স-ডে উপলক্ষে স্কুলে প্রতি বছর একটা প্রোগ্রাম হত। সেটা স্কুল ছাড়ার পড়ও অনেকবার দেখতে গেছিলাম। চার বছর আগে শেষবার।  

সেইবার স্কুলে গেছিলাম, শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে, আর সেই স্যার-ম্যাডামদের সাথে একটু দেখা করতে। কিন্তু  সেই অভিজ্ঞতাটা মোটেই ভালো হয় নি। স্যার ম্যাডাম-দের সাথে দেখা হল ঠিকই, কিন্তু অনুষ্ঠান দেখার অভিজ্ঞতাটা, মাঠে মারা গেল। অনুষ্ঠান চলার মাঝখানে, কিছু অবাঞ্ছিত লোকজন স্টেজ এ উঠে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা জ্ঞাপনের সাথে সাথে, নিজেদের সংস্থার বিজ্ঞাপন ও করছিল(বলা বাহুল্য তাতে আমাদের কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমতি/মদত ছিল)। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানের নামে এই প্রহসন, আমি সহ্য করতে পারিনি। ১২ বছর ধরে যা যা শিখেছিলাম, (যেমন, ‘সদা সত্য কথা বলিবে’, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করিবে’, “সত্য বলিতে ভয় পাইবে না’) সব হড় হড় করে বেড়িয়ে এল। কিন্তু তারপর বুঝলাম, একটি কথা এখনো শিখিনি, সবই করবে, কিন্তু সকলের আড়ালে, একা একা, হয়তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে… সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হল, সংস্থার লোকজন সামান্য ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবলেন-ও না। বরঞ্চ আমার-ই ভাই-বোন দের আয়োজন করা অনুষ্ঠানের বারোটা বাজিয়ে তাঁরা উঠে পড়ে লাগলেন নিজেদের কাজকর্মের ব্যাখ্যা দিতে। একজন শিক্ষিকা, এসে আমাকে বেশ কড়া বাষায় বোঝালেন, কত বড় গর্হিত অপরাধ আমি করেছি।

সেই যে স্কুল থেকে বেড়িয়ে এসেছি, আর স্কুলমুখো হইনি। স্যারেদের সাথে যোগাযোজ আছে; কখনো ফোনে, কখনো বাড়ি গিয়ে।  

টিচার্স-ডে এর ক’দিন আগে একটা খুব খারাপ খবর পেলাম। ক্লাস টেন-এ একজন স্যারের কাছে অঙ্ক আর মেকানিক্স পড়তাম। তিনি আমার থেকে ৪ বছরের বড় ছিলেন। দু-তিন দিন আগে খবর পেলাম, তিনি মারা গেছেন। সেই দেবার্পণ দা আমার মাধ্যমিকের রেজাল্টাটা পাতে দেওয়ার মত হওয়ার জন্য অনেকটাই দায়ী…

দেবার্পণ দা…

আমার দিদির স্কুল (ব্রাহ্ম গার্লস)-এর ম্যাডাম ছিলেন শর্মিষ্ঠা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওনার কাছে অঙ্ক পড়তে গিয়ে আলাপ হয়েছিল ওনার স্বামী, মানে প্রেমাশিষ স্যারের সাথে। অঙ্ক কতটা শিখেছিলাম জানি না, কিন্তু ওনাদের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম, অনেক গানের সিডি পেয়েছিলাম, আর একটা অসাধারণ পরিবার, বাড়ি দেখেছিলাম। আর কি শিখেছিলাম, সেটা আর বললাম না, ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যাবে তাহলে। কিন্তু একটা অদ্ভূত সুন্দর পরিবেশ ছিল বাড়িটায়। এখনো নিশ্চয় আছে, তবে যাওয়া হয়নি অনেকদিন…

শর্মিষ্ঠা দি ও স্যার…

কলেজে পেয়েছিলাম অমিতাভ (এ এস) স্যারকে। রাণা স্যার যে ভালোবাসাটা তৈরী করেছিলেন, সেটা কালক্রমে এ এস স্যারের প্রভাবে দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তা  ছাড়া কলেজের পিকনিক, ক্রিকেট ম্যাচ, ডিপার্টমেন্টের ম্যাগাজিন, সব ব্যাপারেই স্যার আমাদের যে মদত আর সাহয্যটা দিয়েছেন, সেটা কোনোদিনই ভোলার নয়। সেমিনার ক্লাবের সেমিনার অর্গানাইজ করা, কলেজের পারমিশান, সব ব্যাপারেই আমাদের বিপত্তারণ ছিলেন ডক্টর অমিতাভ শীল।

অমিতাভ স্যার…

বাড়িতে অনার্স পড়তাম সাধন দা এবং দীপঙ্কর দা-এর কাছে। নাম নিলুম, কিন্তু এত খারাপ স্টুডেন্ট তো তাঁরা জীবনে পাননি, তাই আজ ত্যাজ্যছাত্র করলে অবাক হব না।

কেমিস্ট্রির প্রতি আমার ভালোবাসা কোনোদিনই ছিল না। সত্যি কথা বলতে গন্ধ সহ্য হত না। উচ্চমাধমিকের পর, দিদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর পাসের কেমিস্ট্রি নিয়ে বেশ চাপে ছিলাম। কিন্তু অর্গানিক ক্লাসে ঢুকে বেশ স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলেছিলুম কৌশিক স্যারের পড়ানো দেখে। দিনে দিনে কথা বাড়ল সিনেমা নিয়ে, ফাউন্টেন পেন নিয়ে, তারপর কলেজ স্ট্রীটে পেনের দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া থেকে একসাথে পেন কিনতে এদিক ওদিক যাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা স্টিফেন কিং থেকে লাভক্রাফট, আর হেলবয় থেকে শার্লক হোমস নিয়ে আলোচনা,  আর মাঝে মাঝেই স্যারের বাড়িতে আড্ডা। স্যার আমার কাছে স্যার রয়ে গেলেন, স্যারের স্ত্রী ‘বউদি’ হয়ে উঠলেন, আর একটা ভাইঝিও পেলাম। এটা ছাত্র হিসাবে আমার একেবারেই অন্যরকম প্রাপ্তি।

স্যার, বউদি আর ভাইঝি…

তবে, কলেজের পড়, এরকম শিক্ষক একজনও পাইনি, যিনি আমার জীবনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন। সত্যি বলছি।

তবে, এ সবের বাইরে একজনের কথা না বললে, এই বিরাট লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তিনি আমার জামাইবাবু, কৌস্তভ বন্দ্যোপাধ্যায়। সামান্য যে টুকু জ্ঞানের জন্য নিজেকে ফটোগ্রাফার বলে কলার তুলে ঘুরি আজ, সেটার হাতেখড়ি হয়েছিল কৌস্তভদার হাতেই। ডি এস এল আর ধরা শিখেছিলাম, শিখেছিলাম ছবি তোলা।

কৌস্তভদা…

বিরাট বড় লেখা হয়ে গেল, জানি। কিন্তু সবার কথা লিখতে গেলে পরিসরের কথা চিন্তা করা মুশকিল। দিন প্রায় শেষ হতে চলল, কিন্তু দিনের শেষে আমার সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। আপনারা না থাকলে, আমি সত্যিই থাকতাম না…

শান্তির আশায়…

নীল…

পুনশ্চ – শনিবার যথারীতি প্রতুলের ডায়েরীর দ্বিতীয় কিস্তি আসবে…

প্রতুলের ডায়েরি… : প্রথম কিস্তি

লেখকের কথা :

কলেজস্ট্রীটের ফুট থেকে পুরোনো ডায়েরী কিনে যে কেন এনেছিলাম, সেটা ভাবলে এখন নিজের মনকেই কোনো সদুত্তর দিতে পারি না; হয়তো ভেবেছিলাম, প্রোফেসর শঙ্কুর পরের ডায়েরী, যেটা হয়তো মাণিকবাবুর হাত এড়িয়ে পুরোনো বইয়ের বোঝার ভেতরে আত্মগোপন করে ছিল… কিন্তু সেরকম কপাল নিজে আর এই পোড়া দেশে কতজনই আর জন্মেছে ? শঙ্কুর বদলে পেলাম প্রতুলকে। তবে না, সে বিজ্ঞানী-টীজ্ঞানী নয়… আসলে তার ডায়েরী পড়ে বোঝা যায় না, সে কি করে, ঠিক কি তার পেশা। কিন্তু তাকে যেটুকু চিনেছি, তা তার ডায়েরীর থেকে… প্রথমে ভেবেছিলাম, তার ডায়েরীটাকে হুবহু তুলে দেব, কিন্তু তারপর ভাবলাম, না… আসলে প্রতুলের ডায়েরীর সংষ্পর্ষে থেকে আমার নিজের অনেক কথা, যেগুলো বলতে গেলে গলার কাছে দলা পাকিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে, সেগুলো যেন বেড়িয়ে আসছে, একটু করে… তাই প্রতুলের ডায়েরীটা আমি কিভাবে পড়েছি, এবং কি পড়েছি, দুটোই এখানে লিখতে বসলাম। ভালো হয়তো আপনাদের লাগবে না, কিন্তু প্রতুলদের মনের মধ্যে কি চলে, সেটা জানতে পারবেন, আর বুঝতে পারবেন, মুখ ঘুরিয়ে নিতে না পারার কি জ্বালা…

সাধরণ মানুষের সংজ্ঞাটা, সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে আমাদের কাছে। একসময় সাধারণ বলতে আমরা বুঝতাম পরশপাথরের তুলসী চক্কোত্তি, কিংবা কাপুরুষ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এখন কি বুঝি, সেটা আমার চেয়ে ভাল সিজিদ্দা বলতে পারবেন। এবার, আমাদের সমাজের কাঠামো যদি ধরি একটা ধাতব পাতের ওপর খোদাই করা হয়, তাহলে সাধরণ মানুষও সেই পাতে একটা দাগ ফেলে তার দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে; প্রতুল হল সেই ব্যক্তি, যে সমাজের ছাঁচে সামান্যতম দাগ ফেলতেও অক্ষম… অর্থাৎ, সাধারণ মানুষেরও একটা স্তর থাকে, প্রতুল ধরে নিন সেই স্তরেরও নীচে বসবাস করে। মানে সাধারণের থেকেও সাধারণ যদি কিছু থেকে থাকে, সেই সম্প্রদায়েরই সদস্য প্রতুল। রাস্তার ভীড়ে যাদের পাবেন, তারাই সাধারণ মানুষ; কিন্তু প্রতুল হল সেই লোক, যে খালি রাস্তায় একা হাঁটলেও সবার চোখ এড়িয়ে যাবে।  

তার সম্পর্কে এ ধারণা আমার হয়েছে তার রোজনমচায় চোখ বুলিয়ে। কালো চামড়ারূপী রেক্সিনে বাঁধানো ডায়েরীটার প্রথম পাতায় লেখা রয়েছে “প্রতুল সেন”। ব্যাস… আর কিচ্ছু না, সন তারিখের বালাই নেই, রঙ-বেরঙের কালিতে লেখা। তবে লেখা পড়লে বোঝা যায় সেটা একদিনে কখনোই লেখা নয়। আর প্রথম লাইন থেকেই এক এলোমেলো অগোছালো মানুষের পরিচয় পেয়েছি…

‘দাগ’ – ছবিস্বত্ত্ব লেখক

 বছরের পর বছর, একের পর এক ডায়েরী জমিয়ে শেষে এটায় লিখতে শুরু করলাম। ঠিক রোজনামচা হিসাবে নয়, যখন যা মনে হবে সেটাই। আমার দোষ তো ওই একটাই; যতই নিজেকে ‘পারফেক্সনিষ্ট’ ভাবি না কেন, একটা কাজে রেগুলারিটি মেইনটেন করা আমার জীবনে হল না। তাই, ডেট বসিয়ে নিজের অক্ষমতার সাক্ষ্য রাখার পক্ষপাতী আমি নই। যখন যা মনে ইচ্ছে হবে লিখব। কোনো টিপ্পনী থাকবে না, লেখা চলবে লাগামহীন ঘোড়ার মতন।

এবার একটু শেষ কয়েক বছরের কথা বিশ্লেষণ করা যাক। এখানে ভর্তি হওয়ার আগে থেকেই স্কুলের বন্ধুদের জন্য মাঝে মাঝে মনখারাপ করত। আর এখানে এসে চারপাশের লোকজনদের দেখে শুনে ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি অবস্থা হয়েছিল। ক্লাসের ছেলেপুলে যে রেটে টাকা ওড়ায়, সেটা আমার অন্তত খুবই দৃষ্টিকটু লাগে। আসলে ‘তোমার ভালো আরো ভালো হোক’ আর ‘তোমার ভালোতে আমি খুশি হলাম না’ এই দুটো জিনিসের মধ্যে অনেক তফাত আছে। এখানে এসে এই দ্বিতীয় প্রজাতীর মানুষের সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাকে… তুমি যদি কিছু ভালো করতে চাও, তোমাকে সবাই আটকাতে চাইবে, তোমার ক্ষতি করতে চাইবে, আর না পারলে তোমার ভালো কাজ, তোমার সুন্দর জিনিসটা দেখেও নাক সিঁটকাবে। আসলে কারোর ভালো কাজ দেখে প্রশংসা করার আগে মনে হয়, আমার নিজের অক্ষমতাটা বড় হয়ে গেল। অন্যের অ্যাচিভমেন্ট-এর সামনে, আমার অক্ষমতা, যেন অ্যামপ্লিফায়েড হয়ে গেল। ওর ভালো কাজের প্রশংসার থেকে লোকে আমার অকর্মণ্যতার তুলনা করে বোঝাবে, আমি কতটা অক্ষম, কতটা তুচ্ছ।

এ শালা কোন দেশে এসে পড়ালাম রে বাবা ! চারদিকে আনকালচার্ড পাবলিকের সমন্নয়। এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় দেখ। টিচারদের পদলেহন করাটা নতুন কিছু নয়, কিন্তু তা বলে এত ? এবার তো পায়ে লালা জড়িয়ে আছাড় খাবেন তিনি ! এমনই উচ্চ চিন্তাধারার মালিক এনারা, রেস্টোরেন্টে ৫-৬০০ টাকার বিল তুচ্ছ জিনিস এদের কাছে, কিন্তু জেরক্সের দোকানে কেন ৭০ এর জায়গায় ৭৫ পয়সা নেব, এই নিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে এনারা পিছপা হন না…

শনি রবি ছুটির দিন, আর এই দুদিন ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিই মোটামুটি… সারা সপ্তাহে অতটা যাতায়াত, ধকল কি আর কম যায়। রাতে ঘুমের অসুবিধা আমার কোনোকালেই ছিল না; দেশে যুদ্ধ বাঁধুক, বা মহামারী; আমি একেবারে মরার মতোই ঘুমাই… ঘুম আসে না শুধু কম্পিউটার খারাপ হলে… ইদানিং, খাওয়ার পড়ে, মানে ভাতঘুম এর সময় স্বপ্নের সংখ্যায় দিন দিন বেড়ে চলেছে; রাতে স্বপ্ন হয়তো কালেভদ্রে দেখে থাকি, কিন্তু দিনের বেলা স্বপ্ন দেখাটা একেবারে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে…

Daydream ? Or “Daymare” ?

এই অবধি পড়ার পর মায়ের ডাকে খেতে গেলাম, সেদিন রাতে আর পড়ার সময় হয়নি, একটা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। ডায়েরীর পড়ের পাতায় যাওয়ার সুযোগ ঘটল আমার ঠিক একদিন পড়, রাত্রিবেলা…  

শুরুটা ঠিক ‘ঘটনাবহুল’ নয় ঠিকই, কিন্তু সুচনাতেই যদি সব শেষ হয়ে যেত, তাহলে তো আমাকেও বলতে হত সব ‘একলাইনে বলার কথা…’ যাক গে। আগেই বলেছি, কত কিস্তিতে শেষ হবে এটা জানি না, আর কতদিনে শেষ হবে সেটাও জানি না, তাই, একটু সহ্য করতে হবে বইকি !!!

শান্তির আশায়,

নীল…

‘Hope’ – Makes us Cry the Most…

I’ve been told often that I get emotional easily… Specially watching movies, the four years old me cried while watching The Lion King, and that has become a habit growing up.

There are so many movies that made me cry, but last night actually surprised me.

I was watching ‘Article 15’ last night; and the last scene of that Film made me cry.

 I’m not here to critique the Film, but to put some things in perspective. The film is about equality, as we all know by now, and how a Cop in Uttar Pradesh tries to enforce the Article 15 of the Indian Constitution. The movie is a very well made, and worth spending time on.

But, that’s not what I’m here to talk about.

This movie portrays the very real situation of Rural India, where lower casts (Dalits) are marginalized and preyed upon. Higher Casts are not allowed to Eat Food from there hand/kitchen even step in their Shadows, even in 2019. But not just rural, even in Urban India, marriage proposals start with

-“What ‘caste’ are you ?”

And we normalized this discrimination by putting a social label to it. “It’s what’s been happening since the dawn of time”, “It’s a part of Vedic Culture” etc etc…

It’s a great excuse to pull the world’s oldest book in the mix to justify things, but as Vedas clearly states, the “Varnashram” is the social division with respect to occupation. Scholars are Brahmins, Warriors are Kshatriyas, etc. Now, A Son of a Kshatriya usually goes into the family business of War and being Kings, and so does a son of a Brahmin; there’s rarely any change in occupation.

So, what started as occupational, got carried forward by Descendance… and thus “Varnashram” became racism. And even in modern society, we expect a son of a cobbler to become cobbler, not a doctor. And there is absolutely no ‘logic’ behind this mindless thinking.

This is going on for centuries. There are some places, where things are better, but In most places things are worse than ever.

But, in the last scene of Article 15, we see a Police Force led by Ayan (Ayushmaan Khurana) is eating food from a roadside vendor. And when Ayan asks “Amma, Kaun Si Jaat Ke Ho ?” we hear a truck pass by and that muffles the answer of the old woman.

I cried in that precise moment…

Because, ‘Hope’…

I often say, the chaos in my country will increase day by day. Communities will be at each other’s throat. Human Rights will be reduced to mere words. And people will not feel safe walking the streets.

But, still… Movies like Article 15, gives us hope… Gives me hope… Maybe we can make this better, maybe our country can be what we want it to be with our collective effort. Maybe one day we will be known for only the work we do, not our surnames. Not by my descendants, but my own doings.

Hope… and that made me cry… that made me feel helpless… Made me feel like that 4 year old dreamy kid, who only saw the good in this world.

But, we can’t live in the movies, can we ?

Peace…

Neel…