আমি জানি না এর শেষ কোথায়; বা আদৌ এর কোনো শেষ আছে কিনা। কয়েক সপ্তাহ আগেই ফেমিনিজম নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম, আর আজ এই লেখাটা লিখতে গিয়ে কেমন মনে হচ্ছে বলা কথা আবার বলছি। কিন্তু তবু সত্যি বলতে কি আজ অন্য কিছু লেখার মত মানসিকতাই নেই আমার।

এই সপ্তাহের শেষটা কেমন বিষময় হয়ে গেল। মানে কাল জি ডি বিড়লা, আর আজ আবার নাকি শুনলাম এম পি বিড়লা। কি হয়েছে, কারা কি করেছে, সেটা লিখতে পারলাম না, গা গোলাচ্ছে। তাছাড়া কিছু বাংলা নিউজ চ্যানেল, যারা নিউজের নামে দর্শকের পার্ভার্শান কে তোল্লাই দেয়, তাদের কল্যাণে সবাই তো সব জানে! অতিরিক্ত ডিটেইল-এ… আমি তো ভয়ে কাল থেকে টিভি খুলতে পারিনি, কারণ গিরিশ পার্ক ফ্লাইওভার ভেঙ্গে পড়ার দিন যা বাঁদরামো করেছিল চ্যানেলগুলো, সেদিনই বুঝে গেছিলাম এদের মানবিকতা, সামাজিক দায়িত্ব বলে কিছু নেই।

যাক গে যাক। আমার লেখাটা বলা বাহুল্য কিছু আবাল নিউজ চ্যানেলকে টারগেট করে নয়। তাদের কাজ গু ঘাঁটা, তারা ঘাঁটবে। আমার আসলে কতগুলো কথা মনে হচ্ছে কাল থেকে। সেগুলোই বলতে চাই। কিন্তু পয়েন্টে আসার আগে, কিছু গৌরচন্দ্রিকা করা বিশেষ প্রয়োজন।

পাশ্চাত্য কালচারের সাথে আমাদের সম্পর্ক বড় অম্লমধুর। তাই আমাদের বাজারে কোল্ড-শোল্ডার টপ ছেয়ে যায়, আর তারপর আমরা পণ নিয়ে ছেলের বিয়ে দিই; মানে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ, আর পরে ছেলে বঊ নিজের মত সংসার পাততে চাইলে তাদের স্বার্থপর বলি, আর সব দোষ দিই পাশ্চাত্য কে। অন্যদিকে নিজের মেয়ে জামাইকে আলাদা সংসার পাতার বুদ্ধি কিন্তু আমিই দিয়েছি।

আমরা বোঝাতে চাই আমাদের সংস্কার, সংস্কৃতি, এসবের ধারেকাছে আসে না ওই লালমুখো সাহেবরা। সোজা কথায়, আমাদের যা যা পচ্ছন্দ, সেগুলো নি, আর যেগুলো পচ্ছন্দ নয়, সেগুলো তাচ্ছিল্য করে দূরে সরিয়ে রেখে দিই। আর তাই, আমরা একবারও ভাবি না, পাশ্চাত্য সভ্যতা মানসিক স্বাস্থ্য, মানে ‘মেন্টাল হেলথ’ কে কতটা গুরুত্ব দেয়। আমাদের কাছে মেন্টাল মানে পাগল। হয় বদ্ধ পাগল, নাহলে পাগল।

‘তুই কি পাগল নাকি’

কথাটা তাচ্ছিল্য করে বলতে বলতে কথাটার মানে, ওজন, সব ভুলে গেছি আমরা। একটা সুস্থ মানুষেরও যে সময়বিশেষে ‘কাউন্সিলিং’ লাগে, সেটা আমরা ভাবতেই পারি না। একজন লোক, ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করুক, ভালো; কিন্তু সে যদি সাইকায়াট্রিস্ট এর কাছে যায়, তাহলেই সে পাগল। মানে তার সাথে কালো ছেঁড়া জামা পড়ে ডাস্টবিন খুঁটে খাওয়া একটা ডিলিরিয়াম বকা লোকের কোনো তফাত নেই।

consent-696x366

ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে ‘Innocence’।  অনেক ভেবেও এর একটা ঠিকঠাক বাংলা আমি ভেবে পাইনি। ‘শিশুত্ব’ কথাটা বড় বাজে শুনতে লাগে। একটা বাচ্চার এই ইনোসেন্স রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু সমাজের, তার মা-বাবার একার নয়। আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখক স্টিফেন কিং এর একটা গল্প আছে, ‘দ্য বডি’ এমনকি, সেটা নিয়ে একটা সিনেমাও হয়েছিল, ‘স্ট্যান্ড বাই মি (১৯৮৬)’। একবার সময় পেলে দেখবেন এবং পড়বেন। গল্পটা এই ইনোসেন্স নিয়েই।

এত ইনোসেন্স ইনোসেন্স বলে চেল্লাচ্ছি কারণ আমার মনে হয় আমরা আমাদের শিশুদের ইনোসেন্স রক্ষার পেছনে যথেষ্ট চেষ্টা করছি না। কারণ, সেক্সের ফাঁদ পাতা ভূবনে, কাগজে কাগজে, টিভিতে, সিনেমায়, রাস্তার মোড়ের প্ল্যাকার্ডে। শুধু সেক্স কেন, ভায়োলেন্স কেও বাদ দিলে চলে না। আমাদের দেশে, শহরে রোজ গন্ডায় গন্ডায় ভায়োলেন্ট ক্রাইম হচ্ছে, আর নিউজ চ্যানেলরা সেটা রিপোর্ট করার নামে যা করে, সেটা সম্পর্কে আমার অভিমত সহজ ভাষায় লিখতে গেলে, এ ব্লগ আর কেউ পড়বে না। তাই আমাদের নিজেদের সক্রিয় দায়িত্ব ছাড়া এটা সম্ভব নয়।

এবার আসি পরের কথায়। মানে বয়ঃসন্ধি। এ সময়টা ভারতীয় সংস্কারি বাবা মা এর কাছে অত্যন্ত ‘Awkward’  সময়। কারণ এতদিন আমরা সন্তানের ‘Innocence’ রক্ষার কথা ভাবি বা না ভাবি, এবার সেটা রক্ষা করার জন্য উঠে পড়ে লাগি। মানে যখন আমার সন্তানের যৌনশিক্ষার, মানে সেক্স এডুকেশনের দরকার, তখন আমরা উঠে পড়ে লাগি ঢাল হয়ে তাকে সেক্স এর যাবতীয় ধারণা থেকে দূরে রাখার জন্য। আর আমাদের দেশে তো এরকম একটি রাজনৈতিক দল আছে, যাদের কাম কাজ নেই, নিজেদের গোটা দেশের মোরাল পুলিস মনে করে রোজ মিছিল করে ‘যৌনশিক্ষা তুলে দাও’ বলে।

তাই, আমরা কিছুই পারি না, বা পারছি না। না পারছি সন্তানের শৈশবকে রক্ষা করতে, না পারছি তাকে সময়মত যৌনশিক্ষায় শিক্ষিত করতে।

ফলাফল ?

এবার ফলাফলে আসি। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে (কোন সমীক্ষা মনে নেই, কিন্তু সন্দেহ থাকলে গুগল করে নেবেন) যেসব ছেলে/মেয়ে বাড়িতে বা স্কুলে যথাযত সময় যৌনশিক্ষা পায়, তাদের প্রথম সেক্সুয়াল এনকাউন্টার অনেক পরিণত বয়সে হয়, তাদের অনিচ্ছায় অন্তসত্ত্বা হয়ে পরার হার কম, এবং তাদের ধর্ষন করার হারও কম।

অবশ্যই, এটা একটা সমীক্ষা মাত্র, এর ভুরি ভুরি ব্যাতিক্রম আছে। কিন্তু যারা সঠিক সময়ে যৌনশিক্ষা বা কাউন্সিলিং পায় না, তাদের কাছে সেক্স ব্যাপারটা একটা অধরা, আবছায়া জগত হয়েই থেকে যায়। তাই একটা চার বছরের শিশুকে নিছক শাসন করার থেকে তাকে যৌন নিগ্রহ করার মধ্যে যে কতটা ফারাক, সেটা বোঝারই কোন ক্ষমতা থাকে না। তাই তো একটা শিশুর জন্য যেটা স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠার কথা সেটা নরকের চেয়েও খারাপ হয়ে ওঠে। তাই শিক্ষক হয়ে ওঠে পিডোফাইল, আর দু একটা মানসিক বিকারগ্রস্থের জন্য, গোটা শিক্ষক সমাজ হয় কলঙ্কিত।

আমি শুধু বলতে চেয়েছি, কি কি হতে পারে এরকম মানসিক ‘ব্যাধির’ কারণ। এর সমাধান সবার সামনেই আছে। মানে আমার লেখার মধ্যেই আছে। শুধু প্রশ্ন হল, বেড়ালের গলায় ঘন্টাটা কে বাঁধবে? আর কাল কার ভরসায়, আমি আমার সন্তানকে ৬ ঘন্টার জন্য একটা স্কুলে ছেড়ে আসব, একা ?

Advertisements

One Comment on “শিক্ষার ভুলে মানুষের(?) ভুল…

  1. Bare truth in front of our eyes. We all, are aware of all these, yet we don’t want to accept it!! As because, IT IS THE TRUTH! And truth hurts. This man here, highlighted the truth. Not only out of shame for the society, but to make us realise where we are doing wrong. Its upto us now, to make sure that the future generations stop getting hurt by this truth any further. As this man stated, the right kind of education is what is needed. Why wait for the schools to add sex education to the syllabii? When we, as parents, can bring it up? Afterall, the one who is getting hurt, is also someone’s daughter/son/sister/brother/mother/father…

    Liked by 1 person

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: