আবার কবিতা…

প্রথমে কালী, তারপর জগদ্ধাত্রী। বড়ির পর পর এই দুটো পূজোর শেষে, শরীরবাবাজী ‘এবার ক্ষ্যামা দাও’ বলে বিছানা নিলেন। প্রথমে চোখ ফুলে ঢোল, তারপর জ্বর, অবশেষে পৈটিক গন্ডগোল। নাকের গোঁড়ায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ইন্টারনাল আর সেমেস্টার। এর মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত এসে জুটেছে রাইটার্স ব্লক। তাই আর একটু হলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্লগে তালা ঝুলছিল আরকি। কপালগুনে একটা কবিতা লিখে ফেলায়, ভাবলুম আপাতত এটা পোস্ট করে দায়িত্ব এড়াই; শনিবার না হয় আর একটা ব্যবস্থা করা যাবে।

13.11.17
খামখেয়ালি – (c) Neelotpal Sinharoy

এ কবিতাটার নাম – “ভালোবাসা-মন্দবাসা”

কবিতার প্রেরণা দু’জন। আইডিয়াটা আমার এক স্যারের লেখা একটা ওয়ান লাইনার থেকে নেওয়া, আর কবিতাতে মন্দবাসাটা বলতে কাকে বুঝিয়েছি, সে নিজে একবার শুনেই বুঝে গেছে সেটা, আর তাই আমি তিরস্কারে ভূষিতও হয়েছি। বলাবাহুল্য, আমার লেখা আর সব কবিতার মত, এটিও তাকেই নিবেদন করলুম।

 

তাদের, দেখা হত রোজ;

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়,

(কখনো বা) পাড়ার মোড়ে।

একজন মুখ ঘুরিয়ে নিত, ভ্রুকুটি করে;

অন্যজন একটা প্রশান্তির হাসি হাসত।

কথা বলার সুযোগ ছিল অনেক,

(কিন্তু) ইচ্ছে নিয়েই হত সন্দেহ।

এখন প্রশ্ন হল, ভালোবাসা তো ভালোবাসাই,

মন্দবাসাটা কি ? কোথা থেকে এল সে ?

এ প্রশ্ন, অনেকের মনেই ছিল;

আর তাই হয়তো, সেদিন তাদের দেখা হয়ে গেল।

কোথায়? ধরে নি দুজনে আটকা পড়েছিল,

হয়তো কারো ফন্দি বা প্ররোচনায়।

মন্দবাসা আবার মুখ ঘরিয়ে নিল,

ভালোবাসা চোখের পলক ফেলতে পারল না।

বেশ কিছুক্ষণ পর, কটুভাষী মন্দবাসা বলে উঠল;

-কি দেখছ, অমন হ্যাংলার মত ? আগে দেখনি, নাকি ?

-দেখেছি, কিন্তু আজ আরো সুন্দর দেখাচ্ছে তোমায়।

-ওই তোমার দোষ- কিছু একটা দেখলেই ভালোবেসে ফেল। আদিখ্যেতা!

-আর তুমি? তোমার কাজটা কি ?

চুপ করে যায় মন্দবাসা,

কি যেন ভাবে; চোখ দুটো তার

ছল ছল করে ওঠে অজানা দুঃখে।

ভালোবাসা আবার জিজ্ঞেস করে, -কি হল?

-আমি ? আমার কাজও ভালোবাসা।

শুধু তফাত হল, তুমি পা মেপে ফেল না,

সেসব ধর্মে নেই তোমার।

আর আমি পা মাপতে গিয়ে,

আমার কাজটাই ভুলে যাই মাঝে মাঝে।

-কিন্তু ভালোবাসলে কি আর পা মেপে…

-তুমি জান না, তোমার মনে থাকে না,

কতবার পা পিছলেছে তোমার-

সব পিছনে ফেলার আনন্দে তুমি

সামনে তাকাতে ভুলে যাও;

আর মুখ থুবড়ে পড়, ক্ষতবিক্ষত হয়ে।

সেসব দেখে আমার সহ্য হয় না – আসলে…

আসলে তোমায় যে আমি বড্ড ভালোবাসি গো।

যার প্ররোচনাতেই হোক, এদের মিলন হল-

আর জন্ম নিল – ‘প্রেম’।

 

শান্তির আশায়

নীল

 

পূনশ্চ ঃ আর লেখা দিতে লেট হবে না। মা কালীর দিব্যি… সাথে মা জগদ্ধাত্রীরও…

 

 

One thought on “আবার কবিতা…

Leave a reply to Gobinda Karmakar Cancel reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.