বিধিসম্মত সতর্কীকরণ – লেখকের নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়ে গেছে, এবং জনে জনে কাঁচা কাঁচা খিস্তি করেছেন এই লেখায়। পড়বেন না। কান দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
“যেতে যেতে পথে ফুল-মুন রাতে আবার উঠিবে চন্দ্র,
সুরসুর স্রোতে মারা যাবে তব এলিট পোঁদের রন্ধ্র…”
রোদ্দুর রায়
ফ্রীডম অফ স্পীচ নিপাত যাক!
আবার বলছি, ফ্রীডম অফ স্পীচ নিপাত যাক। বুঝলাম সবার নিজের মনের কথা বলার, এবং শোনানোর ইচ্ছে আছে। যে রাজ্যে এককালে বসবাস করতাম, সেখানে তো সিনেমা থেকে মানুষ সবই ব্যান হয়ে যেত হেডঅফিসের দিদিমণির বিরুদ্ধে কথা বললে। মানে ব্যাপার হল, সরকার এবং সরকারী নীতি (?) এর সমালোচনা করে লেখালিখি হলে, সিনেমা বানানো হলে, গর্দান যাবে। তো তখন অবশ্যই আমি প্রতিবাদ করেছি, কারণ রব স্নাইডার, তার এক স্ট্যান্ড আপ শো তে বলেছিলেন,
“ফ্রীডম অফ স্পীচ ইজ টু প্রোটেক্ট দ্যা আনপপুলার, আনকম্ফর্টেবল ট্রুথ…”
হক কথা, কিন্তু ব্যাপার হল, এখন সেই ফ্রীডম অফ স্পীচ, ফ্রী সোশ্যাল মিডিয়া এবং মাগনা ইন্টারনেট যে দুনিয়ার গেরস্থবাড়ির কেচ্ছা আমার পোঁদে গুঁজে দেবে, সেটা আমি কেন সহ্য করব? সোশ্যাল মিডিয়াটা আমার কাজের জায়গা, আমি ডুম স্ক্রলিং করছি বিছানায় শুয়ে শুয়ে, সেটা নয়; রীতিমত অফিসে বসে, কাজের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করছি, আর সেখানে
“আমার স্বামী আমাকে থ্রীসাম করতে বাধ্য করেছিল!”
“আমি পাঁচবার বিয়ে করেছি সংসার চাই বলে, সন্তান চাই বলে।”
“আমার স্বামী আমাকে তার এক্সের সাথের পানু ভিডিও দেখাত”
“সেক্স করতে গিয়ে ওর নুনু ছিঁড়ে গেছে!”
“ও মিথ্যে কথা বলছে, এটা ওর পাঁচ নম্বর নয়, সাত নম্বর বিয়ে…”
পোস্ট, তার ওপরে পালটা পোস্ট, তার ওপর কে লাইভ হচ্ছে, কে কার কল রেকর্ডিং আপলোড করে দিচ্ছে। মানে সবার পেট বেদম খারাপ, আর ফেসবুক খুলে, সেখানে ভড়ভড় করে হেগে চলেছে।

এদের মধ্যে আবার এক গান্ডু তো আবার উন্নত প্রজাতির; এক সাথে গোরু আর ছাগল অর্ডার করল, এমন হ্যাংলা, জিজ্ঞেস করল না, ‘কি দিলেন এটা?’ গপগপ করে গিলে নিল, এবং সে নাকি জীবনে গোরু খায়নি; আর খেয়ে নাকি বুঝতেও পারল না। তারপর সেটা নাকি যে খাবার পরিবেশন করেছে তার দোষ, যে বানিয়েছে তার দোষ, যারা বিক্রি করছে তার দোষ। তুমি তো ধোয়া তুলসীপাতা!
মানে মাইরি সত্যি বলছি, সোশ্যাল মিডিয়া মনিটাইজ হয়ে আমাদের কি হারে সর্বনাশ হয়েছে!
এইসব চোদনারা ভিউ আর রীচের জন্য, নিজ নিজ জননীর চিতা থেকে হুঁকোর কলকে ধরাতে পারে, লাইভে এসে।
আর তার থেকে বড় রামপাঁঠা হলাম আমরা, যারা হা হা হি হি করতে করতে, এইসব রীচ-ভিখারির ঝোলায় ভিউ-এর পর ভিউ দিয়ে চলেছি। আর এই লেখাটা আমি সোজা ফেসবুকে লিখলাম না, কারণ এত খিস্তি লিখলে হতে পারে আমিই ব্যান খেয়ে গেলাম।
যাই, হোক, তাই গোটা কলকাতা এখন ফিফটি শেডস অফ দাদা বৌদি হয়ে বসে আছে। আর লোকের সংসারের কেচ্ছা, হড়হড় করে আমার দেহের সমস্ত ছ্যাঁদা দিয়ে মরমে পশিল গো…
এবার আসি পরের কথায়।
অভয়ার মা, ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।
তাতে কার বাবার কি?
কিন্তু দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান মার্ক্সবাদী পার্টির সমর্থক, এবং লো-লেভেলের খোচড়দের গাঁড় ফেটে দরজা হয়ে যাচ্ছে।
কেন?
মানে এরকম কি কোনও চুক্তিপত্র ছিল, যে একটা জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদ করেছি বলে আপনাদের সারাজীবন ঋনী হয়ে থাকতে হবে? পলিটিক্যালি মাঠে নামলে আমাদের টীমের হয়েই খেলতে হবে, না হলে আপনাকে গালাগাল দেব।
ছিল কি এরকম চুক্তিপত্র?
তাই তিনি কোন দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ালেন, কেন দাঁড়ালেন, কি বললেন, কিচ্ছু যায় আসে না। তাঁরা কোনওরকম কৈফিয়ৎ দিতে বাধ্য নন। মনে রাখবেন, এটাও তাঁর বাক স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। লোকের ঘরের কেচ্ছা বাক-স্বাধীনতা হলে, এটাও অবশ্যই বাক-স্বাধীনতা। আর আপনাদের চোদ্দগুষ্টির কারোর পক্ষে কষ্মিনকালেও বোঝা সম্ভব নয়, উনি কি হারিয়েছেন, কিভাবে হারিয়েছেন, এবং কিভাবে রাজ্যের সরকার সমস্ত কিছু ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু, ‘বোধহয় মেয়েটার অনার কিলিং হয়েছে’ এবং আরও অন্যান্য একই ধরনের পোস্ট দেখে আবারও একবার চোখের সামনে প্রমাণ হয়ে গেল, কোনও তফাত নেই। সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ-এর অনেকগুলো দিক আছে, আর এই যে ‘আমিই শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে বড়’ জাতের উক্তিগুলো, আবার প্রমাণ করে দেয়, ঠিক কেন আপনারা ক্ষমতায় নেই, আর কেন আপনারা ক্ষমতায় আসছেন না।
রাজনীতিতে ধোয়া তুলসীপাতা কেউই নয়, এক কালে যখন এই লাল পার্টি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল, তার সাথে কম সমাজবিরোধীর নাম জড়ায় নি। এখন সেসব সবাই ভুলে গিয়ে, উদ্বাহু হয়ে ‘তোদের গুন্ডারা আমাদের গুন্ডাদের থেকে বেশী গুন্ডা’ এসব ন্যারেটিভ তুলে নিজেদের এলিটিস্ট পোঁদে তেল-ঘি মাখিয়ে যদি অর্গাজমের আনন্দ পান, তো নিন!
আসন তো পাবেন না!
আর্যভট্ট শূন্য আবিষ্কার করছিলেন, আর পশ্চিমবঙ্গে বামেরা তার পূনরাবিষ্কার করেছেন।
কি ভাবছেন? ভাবছেন এই ছেলেটারও ব্রেণ-ওয়াশ হয়ে গেল দিল্লী গিয়ে?
ভাবুন! তাতে আমার বাল ছেঁড়া গেল!
আমার কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে কোনওকালে কোনও সংযোগ ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না, তাই আমি জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল এবং নেতা-নেত্রীদের বুক ফুলিয়ে খিস্তি করে থাকি।
আজ লাল, কাল সবুজ, পরশু গেরুয়া… আমার স্টকে প্রচুর খিস্তি আছে।
কিসের শান্তি?
নীল
