-“হে বাবা শনি! আমার দুরবস্থার কথা তো তুমি সবই জান, প্রভু! তোমার কাছে একটা, শুধু একটাই প্রার্থনা, এক দিন শুধু সোহিনীর কাছে গালাগালি খাইয়ো না! মাইরি বলছি! এই অফিসে ঢুকেছি কি ঢুকিনি, টিফিন ফেলে এসেছি বলে ভাল করে শুনিয়ে দিল! এরকম রোজ রোজ কার ভাল লাগে বল তো? তোমারও তো ঘরে বৌ… মানে কালিন্দী-বৌদি… ও না না! সে তো যমরাজের বৌ…”
অদৃশ্য শক্তির প্রতি সুকোমলের ভক্তিভরে এই প্রার্থনা এতক্ষণ মন দিয়ে শুনছিল রাহুল, এবং অনেক কষ্টে হাসি চাপার চেষ্টা করছিল, কিন্তু শেষ লাইনে সে আর চাপতে পারে না, বেশ বিচ্ছিরি ভাবেই খ্যা খ্যা করে হেসে ওঠে, এবং হাসির এমনই বহর, সুকোমল চমকে ওঠে তাতে!
-“সত্যি বাবা! তোর হাসির শব্দে একদিন কারও না কারো হার্ট ফেল হবে এই অফিসে, রাহুল! তোর নামটা রাহুল না রেখে ‘রাহু’-ই রাখা উচিত ছিল! দেখছিস পুজো করছি, এরকম ভাবে কন্সেনট্রেশন ব্রেক করার কি মানে?”
কোনওরকমে হাসি থামিয়ে রাহুল উত্তর দেয়,
-“মাইরি, সুকো দা! এরকম ভাবে জীবনে কাউকে প্রার্থনা করতে দেখিনি, তাও একেবারে বড়বাবার কাছে?”
দীর্ঘস্বাস ফেলে সুকোমল জবাব দেয়,
-“হাসিস না রে! হাসিস না! আমার এখন শনির দশা চলছে, আর প্রার্থনা করব টাই কার কাছে? এক যদি এই কাকুতি মিনতিতে শনিদেব আমার দিক থেকে দৃষ্টিটা সরান”
রাহুল আবার হাসতে আসতেই প্রশ্ন করে,
-“তা, ঠিক কি শনির দশা চলছে, শুনি?”
-“আরে আর বলিসনা, ভাই! আমি তো গালি খাচ্ছি, রোজই; আজ আবার মরতে আমার বাবা-মা এসে উঠবেন! যেটুকু ঘরে শান্তি ছিল, সেটারও এবার দেবে পিন্ডি চটকে।”
-“ওরে সব্বনাশ! জ্যেঠু-জ্যেঠিমা তোমার ফ্ল্যাটে? হয়ে গেল তাহলেই!”
-“ভেবে দেখ! একেবারে ইউ-২৩৫ এর ক্রিটিক্যাল মাস, যেকোনো মুহুর্তে ডেটোনেট করতে পারে!”
এবার দু’জনেই হেসে ওঠে, তারপর রাহুল এবং সুকোমল, দু’জনেই দু’জনের কাজে ফেরত যায়।

সকাল থেকে কখন দুপুর হয়ে যায়, খেয়াল থাকে না সুকোমলের। বিকেল করে হঠাৎ মনে পড়ে, এইরে! সোহিনী বাড়িতে, আর মা-বাবারও তো এসে যাওয়ার কথা একবার ফোন করে খোঁজ নেওয়া বিশেষ দরকার! তাড়াতাড়ি সে ফোন করে সোহিনীকে। দু’বার রিং হওয়ার পর সোহিনী ফোন তোলে, আর শুনতে পায় ব্যাকগ্রাউন্ডে তারস্মরে শ্যামাসঙ্গীত বাজছে, “পৃথিবীর কেউ ভালো তো বাসেনা…” এটা কানে শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সুকোমল প্রশ্ন করে;
-“সব্বনাশ করেছে! এ কি অবস্থা?”
সোহিনী একটা নকল হাসি দিয়ে বলে,
-“হা হা হা! ওই যে, মা তোমার অডিওফাইল সেট আপে শ্যামাসঙ্গীত শুনছেন! বিকেলের রেডিওটা খুব মিস করছেন কিনা?”
সুকোমল ভয়ে সিঁটিয়ে যায়!
-“আমার সব টিউনিং/ব্যালেন্সিং ঘেঁটে দিল গো! তুমি! তুমি বারণ করতে পারলে না? সকালে বললাম না, তোমার সংসার…”
সোহিনী অবেক হওয়ার ভান করে উত্তর দেয়,
-“আসলে তোমার অডিওফাইল সেটআপটা আমার সংসারের অঙ্গ নয় কিনা! মনে নেই, এক মাস আগে…”
সোহিনী কথা শেষ করার আগেই সুকোমলের মনে পড়ে যায়, এক মাস আগে ধুলো না মুলো কি নিয়ে একটা ঝগড়া লেগেছিল, তখনই সে রাগের মাথায় সোহিনীকে বলেছিল,
-“শোনো! এই দরজার বাইরে তোমার সংসার, আমার এই ঘর, তোমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না, তোমার সংসারের অঙ্গ না!”
তারই শোধ আজ তুলছে সোহিনী! সুকোমল কাঁচুমাচু হয়ে বলে,
-“জাতির ভবিষ্যতের এতবড় ক্ষতি তুমি কোর না, হিনি!”
সোহিনী কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই, পেছন থেকে একটা চড়া গলা শোনা যায়,
-“কে গো বউমা? খোকা নাকি! দাও, দাও, একবার ফোনটা দাও দিকিনি!”
অগত্যা সোহিনীকে ফোনটা তার শাশুড়ির হাতে চালান করতে হয়।
-“এই খোকা! শোন না! বাড়ি ফেরার পথে অনাদি থেকে মোগলাই নিয়ে আসবি?”
-“মা, আমার অফিস সেক্টর ৫-এ, অনাদি ধর্মতলায়, জানো তো? এটুকু কলকাতার ভূগোলের জ্ঞান নিশ্চই আছে তোমার?”
-“আরে বাবা, ওই হল! কাছাকাছিই তো! মনে করে নিয়ে আসিস, আর আলুর তরকারিটা বেশি করে!”
এবার সুকোমল বিদ্রুপ আর উদ্বেগ মিশিয়ে বলল,
-“এই নাকি তোমার কোলেস্টেরল হাই, ইউরিক অ্যাসিড হিমালয়ের চূড়ায়! সে ব্যাথায় তুমি নাকি শয্যাশায়ী? আর তুমি এখন মোগলাই পরোটা সাঁটাবে?”
এবার মা বেশ ধমক দিয়ে বলেন,
-“আহ! আমার কোলেস্টেরল, ইউরিক অ্যাসিড আমি বুঝবখন! তোকে অত ভাবতে হবে না! চুপচাপ মোগলাই পরোটা নিয়ে বাড়ি আসবি!”
এই বলেই মা ফোনটা কেটে দেন। ব্যাজার মুখে কিছুক্ষণ সীটে বসে থাকে সুকোমল। মায়ের এই স্বভাবগুলো তাকে ছোটবেলা থেকে মানসিকভাবে বিপর্য্যস্ত করে এসেছে। তার থেরাপিস্টও একই কথা বলে। আজ বছরখানেক হল কলকাতায় এই ফ্ল্যাট কিনে শিফট হওয়ার পর থেকে, মায়ের এই প্রভাব থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছে তার, অনেকটা নিজেদের মত করে গুছিয়ে, বা গোছাবার চেষ্টা করেছে নিজেদের জীবনটাকে। এখন আবার মা আর বাবা এসে…
যাই হোক! ক’টা তো দিনের ব্যাপার। পরের সপ্তাহতেই মা-বাবা বাড়ি চলে যাবে, তখন আবার, সোহিনীরাণীর প্রজা হয়ে পায়ের ওপর পা তুলে দিন কাটাবে সে। কিন্তু আপাতত, বিকেল ৫টায়, গোটা সল্টলেক-এর জ্যাম ঠেলে, অনাদির মোগলাই নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।
এই তো জীবন, কালিদা!

সন্ধ্যে ঠিক সাড়ে সাতটায়, ফ্ল্যাটের কলিংবেল বাজায় সুকোমল। সোহিনী দরজা খোলে। সুকোমল ঘরে ঢুকে দেখে, তার বাবা সোফায় বসে একখানা বাংলা খবরের চ্যানেল খুলে দেখছেন। সুকোমলের জানাই ছিল না যে এ বাড়িতে বাংলা খবরের চ্যানেলও আসে; বিশেষ করে সে এবং সোহিনী দু’জনেই ওটিটি ছাড়া কিছুই দেখে না। মা রান্নাঘরে, কি রান্না করছেন বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু গন্ধ ছাড়ছে বেশ।
-“সত্যি বউমা! তোমার দ্বারা না, এইসব গুছোনো হবে না! কোথায় কি রাখ, কিচ্ছু পাওয়া যাচ্ছে না! ধনে পাচ্ছি তো জিরে পাচ্ছি না, আবার হিং পাচ্ছি তো গরম মশলা পাচ্ছি না! যত্তসব!”
কথাটা শুনে সোহিনীর কানটা লাল হয়ে যায়, সুকোমল বুঝতে পারে, বেদম চটেছে সে। এরকম আলপটকা মন্তব্য শুনে লোকের খারাপ লাগবেই, আর এটা নিয়ে কিছু বলতে যাও, হয় মায়ের উত্তর হবে ‘আমি মোটেও ওরম করে বলতে চাইনি’ বা ‘আমি তো আমার এ কথার কোনও খারাপ দেখি না!’ সুকোমল চটজলদি উত্তর দেয়,
-“তা ওর রান্নাঘর তো ওর মতই হবে! মশলার ডিব্বাও কি তোমার ‘লে-আউটে’ রাখবে?”
তার উত্তরে মা খুন্তি নাড়তে নাড়তে উত্তর করেন,
-“বাজে কথা বলিস না, খোকা! গেরস্তবাড়ির রান্নাঘরের না, একটা নক্সা থাকে, সেরকম ভাবেই মশলা রাখতে হয়, তোর বৌয়ের বাপু কাজের কোনও ছিরিছাঁদ নেই!”
এর উত্তরে সোহিনী কিছু বলার আগেই, সুকোমল তাড়াতাড়ি বলে,
-“এলেন আমার বড় মাস্টারশেফ! যেন লোকে দুনিয়ার রান্নাঘর তোমাকে জিজ্ঞেস করে সাজায়! বাজে বকতে পারলে আর কিছুই চাও না, মা!”
কথাটা বলেই, সোজা বাথরুমে ঢুকে যায় সুকোমল। যথারীতি, প্রায় একঘন্টা পর বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখে, মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সোফায় বাবার পাশে বসে। রান্নাঘরের স্তুপিকৃত বাসন ধুয়ে রাখছে সোহিনী, কারণ ভজার মা আসবে না। সুকোমলকে দেখেই মা প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দেন;
-“এতক্ষণ লাগালি যে? খোকা, তোর কি কন্সটিপেশন হয়েছে? নাকি অর্শ?”
অর্শ শব্দটা শোনামাত্রই, রান্নাঘর থেক সোহিনী নিঃশব্দে হেসে ওঠে, যেটা কেবল সুকোমলেরই চোখে পড়ে। সে বলে ওঠে,
-“মা আমি সারাজীবন এরকমই সময় লাগাই বাথরুমে, আর না, আমার অর্শ, ভগন্দর, অস্থানে ফোঁড়া, কিচ্ছু হয়নি!”- আর তারপরেই, কথা ঘোরানোর জন্য বলে ওঠে,
-“এই তোমরা এলে বলেই জানতে পারলাম যে বাংলা খবরও দেখা যায় আমদের টিভিতে!”
উত্তরে মা একটা প্রশান্তির হাসি হেসে বলেন,
-“আরে দূর! কোথায় দেখা যেত? কিসব ছাইপাঁশ ইংরিজি সব সিরিয়াল আর সিনেমা! আমিই তো বউমাকে দিয়ে কেবলের ছেলেটাকে ডেকে কানেকশন করালাম! আরে আমি রোজ রাত আটটার সময় ‘মন উড়ে গেল বলাকা হয়ে’ দেখি না? কালই মহা এপিসোড আছে, মিস হয়ে যেত তো!”
সোহিনীর দিকে তাকিয়ে সুকোমল বোঝে, কথাটা সত্যি, এবং সোহিনীও অত্যন্ত বিরক্ত ব্যাপারটা নিয়ে। সুকোমল কথা বাড়ায় না, চুপ করে যায়, ক’দিনের জন্য মা-বাবা এসেছে, এভাবে ঝগড়া করার কোনও মানে হয় না!
সোহিনী রান্নাঘর সাফ করে এসে বসে, সুকোমল বাড়ি ঢোকার থেকে সে একটাও কথা বলেনি। মা মন দিয়ে সিরিয়াল দেখছে। প্রায় মিনিট চল্লিশেক পর, সবাই মিলে খেতে বসা হয়। এক গরাস মুখে তুলে, মা বলেন,
-“কাল তোর রান্নাঘরটা গুছাবো; বড্ড জিনিস এলোমেলো হয়ে রয়েছ।”
সুকোমল কথা বাড়ায় না, সারাদিন ক্লান্তির পর, সে এখন সে চুপচাপ খাবার শেষ করে বিছানায় যেতে চায়।
-“পরশু তোদের জামা-কাপড়ের আলমারিটা গুছিয়ে ফেলব…”
এবার বেশ বিরক্ত হয়ে সুকোমল বলে ওঠে,
-“বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে মা! আমাদের আলমারি কেন গুছোবে?”
-“আহা রে! কেন গুছোবে!! সব কেমন ডাঁই হয়ে পড়ে আছে, দেখতে যেন খুব ভাল লাগ…”
সুকোমন টাবলে একটা হালকা চাপড় মেরে বেশ জোর গলায় বলে;
-“না!”
এই উত্তরে মা বেশ অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করে,
-“না? না মানে?”
সুকোমল স্পষ্ট, এবং জোরগলায় উত্তর দেয়,
-“না মানে, তুমি না রান্নাঘর গুছোবে, না ঘরের আলমারি। সোহিনী যেমন গুছিয়েছে, সেরকম থাকবে। কিচ্ছু এদিক ওদিক হবে না। তাতে তুমি রান্না না করতে পারলে কোরো না, আর তুমি তো বলেছিলে বাড়িতে খেটে খেটে তোমার গতর জল হয়ে গেছে, এখানে এসে ক’দিন বিশ্রাম করবে? কে বলেছে বাপু তোমার এখানেও হেঁসেল ঠেলতে? এটা তোমার সংসার নয় না, সোহিনীর।”
মায়ের মুখ দেখে বোঝা যায়, তিনি এরকম উত্তর তার ছেলের থেকে আশা করেননি। কিন্তু সুকোমল থামে না,
-“সোহিনী!”
একটু চমকে গিয়েই, সোহিনী বলে, -“হ্যাঁ?”
-“কাল সকালেই কেবলের ছেলেটাকে ডাকিয়ে কানেকশন টা কেটে দেবে, কেবল টিভির একটা আলাদা কানেকশন নেওয়ার কোনও মানে হয় না। টিভিতে যা দেখা যাচ্ছে, সেটা যদি মায়ের পচ্ছন্দ না হয়, তাহলে নিচের ফ্ল্যাটের মুখার্জি কাকীমার কাছে গিয়ে সিরিয়াল দেখে আসবে…”
সুকোমলের কথা শেষ হওয়ার পর, ডিনার টেবলে এক অদ্ভূত নিশ্তব্ধতা। কান পাতলে সবার শ্বাসের শব্দ শোনা যাবে, আর এবার সেই নিশ্তব্ধতা ভেঙ্গে এবার এতক্ষণ বাদে প্রথম মুখ খোলেন সুকোমলের বাবা, তিনি হাততালি দিয়ে বলে ওঠেন,
-“ব্রাভো! ব্রাভো খোকা! আমি গত ৩৫ বছরে যা পারিনি, আজ তুই করে দেখালি! এই প্রথম তোর মায়ের মুখ বন্ধ হল!”
এ কথার উত্তরে সুকোমলের মা টেবল ছেড়ে উঠে দুম দুম করে ঘরে চলে গেলেন।
একটু বাদে, খাওয়া শেষ করে, যখন সুকোমল আর সোহিনী শোওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে, সোহিনী বলে উঠল,
-“মা কে ওইভাবে না বললেই পারতে; দেখ গে কাকে না কাকে ফোন করে বলছে, সব আমার চক্রান্ত!”
সুকোমল বিছানায় বসতে বসতে বলে,
-“সেটা কি বলে না বলে মনে হয় তোমার? এমনিতেও বলে, ওমনিতেও বলে! দেখ…”
বিছানায় বসে, সোহিনীর হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলে সুকোমল;
-“নিয়ম, সংসার, এখানে শিফট করার আগে তো অনেক শুনেছি! তুমিও, আমিও। তুমি অবশ্যই বেশী। খালি জামশেদপুরে সেরকম কিছু বলার সুযোগ ছিল না, ওই বাড়িটা ‘ওনার স্বামীর’ টাকায় কেনা বলে! কিন্তু এই বাড়িটা তো নয়? এটা তোমার আর আমার, পাখির বাসা হোক বা পায়রার খুপরি, এটা আমাদেরই। এখানে আমি আর তুমি ছাড়া আর কারোর কোনো নিয়ম চলবে না!
একটু থেমে, সুকোমল আবার বলে,
-“ইন ফ্যাক্ট, বাড়ির দলিলে শুধু তোমার নামই আছে; তাই তুমি চাইলেই আমাদের মা-বাবা-ছেলেকে, লস্তি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পার!
-“লস্তি?” -সোহিনী ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে।
-“আরে বাবা, হস্তি মানে কি? হাতি!, তাহলে লস্তি মানে কি?”
-“যত্ত বাজে কথা!” হেসে ফেলে সোহিনী।
মুচকি হেসে সুকোমল বিছানায় শুয়ে পড়ে, আর নিজের কনুই এর ওপর ভর দিয়ে উপুর হয়ে, তার গা ঘেষে শোয় সোহিনী।
-“থ্যাঙ্ক ইউ!” -একটা প্রশান্তির হাসি মুখে নিয়ে বলে ওঠে সে।
-“থ্যাঙ্ক ইউ? ফর হোয়াট?” –পালটা প্রশ্ন করে সুকোমল।
-“ফর স্ট্যান্ডিং আপ ফর মি, ইন ফ্রন্ট অফ ইয়োর পেরেন্টস।”
এবার সুকোমল পাশ ফিরে সোহিনীকে ভালো করে জড়িয়ে ধরে। সোহিনীর হাতও, সুকোমলের গলা জড়িয়ে ধরে।
-“কাল তোমার অফিস নেই।“ -ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলে সোহিনী।
-“জানি, কিন্তু পাশের বেডরুমে এক ক্ষীপ্ত মহিলা আছেন, যিনি আড়ি পাতায় সিদ্ধহস্ত। শব্দ পেলে আবার কাকে না কাকে ফোন করে বলবে, “আমার ছেলেটা কামের ফাঁদে পড়েছে”!”
-“ইসসসসস! তোমার কি কোনও ফিল্টার নেই? ছিঃ!”
-“নেই তো! কিন্তু তোমার সেটা বিয়ে আগে বোঝা উচিত ছিল। ”
সোহিনীর পাশে শুয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে সুকোমল। আজ বড্ড ধকল গেছে! সোহিনী শুয়ে থাকে কিছুক্ষণ, তার মনে একটা চিন্তা দানা বাঁধে, যেটা অনেকদিন ধরেই বিন্দু বিন্দু হয়ে জমছিল। দিন দিন সুকোমলের অজুহাতের পরিমান বেড়েই চলেছে। আজ বাবা মা আছে, কাল ক্লান্ত, পরশু তাড়াতাড়ি অফিস যেতে হবে; কাছে থেকেও যেন তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরী হয়েছে, যেটা ভেদ করে মাঝে মাঝে দমকা বাতাসের মত সেই পুরোনো প্রেম বয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু কিছু যেন একটা নেই। এসব ভাবতে ভাবতেই সোহিনী ঘুমিয়ে পড়ে।
