আসলে হয়েছে কি…

রেজিতে একটা কথা আছে, ‘generic’ মানে মার্কাহীন, বুৎপত্তিহীন এক ধরনের বস্তু। এখন আপামর বাঙালি জাতি, আমাদের সেরা অজুহাত গুলো শুরু করি ঠিক এভাবেই; ‘আসলে হয়েছে কি’… আর তারপরেই শুরু হয় গল্প বানানো, একটার পর একটা জেনেরিক ঘটনাকে নিজের জীবনের ধ্রুবসত্য বলে প্রতিষ্ঠা করা। এটাই আমরা করে আসি, এবং করে এসেছি। আর আইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘generic’ মানে মার্কাহীন, বুৎপত্তিহীন এক ধরনের বস্তু। এখন আপামর বাঙালি জাতি, আমাদের সেরা অজুহাত গুলো শুরু করি ঠিক এভাবেই; ‘আসলে হয়েছে কি’… আর তারপরেই শুরু হয় গল্প বানানো, একটার পর একটা জেনেরিক ঘটনাকে নিজের জীবনের ধ্রুবসত্য বলে প্রতিষ্ঠা করা। এটাই আমরা করে আসি, এবং করে এসেছি। আর আজ প্রায় এক বছর লেখা বন্ধ করার পর, সেরকম একটা গল্প আমিও লিখতে বসতে পারি; “আসলে দাদা, কাজের চাপ…” “ব্যবসাতে প্রচুর লস…” “আসলে করোনা ধরা পড়েছিল…” তো এরকম ঘটনা, বলে অনেক অজুহাতের ঝুড়ি খুলে বসতেই পারতাম আমি; কিন্তু বসব না, কারণ অজুহাত পরে, লেখাটা তার আগে, অনেক আগে। দেখুন না, এই লেখাটা শেষ করতেই আমার দু’সপ্তাহ এক মাস লেগে গেল।

তা আজকের লেখাতে না হয় অন্য কিছু কথা বলি। মার্চ মাস থেকে সেই যে লকডাউন-এ ঘরে বসলাম, প্রথমটা বেশ ভালোই কেটেছি; মানে মানসিক ভাবে, যাকে আমরা ‘প্রোডাক্টিভিট’ বলি সেটা খুব উচ্চমানের ছিল। আপনারাই দেখেছেন, প্রথমে ‘Somewhere in the Jungle of North Bengal’ তারপর ‘তরঙ্গ’, স্তুপ, এবং ভূটানের ভ্রমণ কাহিনী… এবং তারপরই অতদিন বাড়িতে বসে থাকা আমাকে অস্থির করে তুলল আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যারা চেনেন, তারা জানেন OCD বা obsessive compulsive disorder-এর ধাত আছে; এবং যাকে obsessive চিন্তা বলে, সেসবে মাথা গিজগিজ করতে থাকল; লেখা লিখি উঠল চুলোয়। তারপর অফিস-বাড়ি, বাড়ি-অফিস করে সময় বার না করতে পারার সেই পুরোনো অজুহাত তো সবসময়ই দেওয়া যায়। তা সেসব নিয়ে যা হল, আমি নিজেকে অজুহাত দিতে শুরু করলাম; ‘এটা মিটে যাক, আবার লিখব’; ‘ওটা মিটে যাক, আবার লিখব’ ‘একটু চিন্তা কমুক, তারপরই…’ আর নিজের অজুহাতের বোঝায় চাপা পড়ে, নিজেরই দম আটকে উঠল।্
যা যা সমস্যায় পড়েছিলাম, বা পড়ে আছি এখনো, তার সমধান ১০০% আমার হাতে নেই, তাই আমাকে বসে থাকতে হবে অন্য কারোর জন্য, যে আমার সমস্যার সমাধান করবে। এখন সেই বরাহনন্দনের আশায় যদি আমি আমার জীবন শিকেয় তুলে দিই, তাহলে সেটা খুব ভুল কাজ হবে।
কারণ আমার ব্লগ, আমার লেখা, কারোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকে না। আমার জীবনও কারোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না। তাই সমস্যাকে সমস্যার মত ছেড়ে রেখে, আমাকে লিখতে হবে, আমাকে ছবি তুলতে হবে, আমাকেই সিনেমা বানাতে হবে…
Why should I postpone my life, for someone else?
শুধু সেই কথা ভেবেই  আবার লিখতে বসা… আর শুধুমাত্র নাম Libberish বলেই, এভাবেই আবোল তাবোল লিখে আজ লেখায় ফেরা, মাথা থেকে চিন্তার বোঝা নামিয়ে আবার জীবনে ফেরার চেষ্টা।
এখন লেখা নিয়মিত আসবে কিনা, বলতে পারছি না;
আবার লেখা বন্ধ হয়ে যাবে কিনা, জানি না, তবে চেষ্টা করব, যাতে বন্ধ না হয়। ধরে নিন, এটা একটা অজুহাত ফেলে রেখে আবার Libberish-কে নিজের রাস্তায় ফেরানোর চেষ্টা।
এরপর কি লিখব? ভেবে দেখিনি…
কিন্তু লিখব… গল্প লিখব, র‍্যান্ট লিখব, যা মনে আসে, ঠিক তাই লিখব… কিন্তু, মাথার চিন্তা পায়ে ফেলে আবার আমার লেখার শুরু… আবার, নতুন করে…

আবার, লেখার আশায়…
নীল…       

2 thoughts on “আসলে হয়েছে কি…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.